আপডেট : ১৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:১৪

মঙ্গলগ্রহে গবেষণা চালাবে বাংলাদেশী রোবট!

জামিল মাহমুদ
মঙ্গলগ্রহে গবেষণা চালাবে বাংলাদেশী রোবট!

যদি হঠাৎ করেই পৃথিবী হয়ে যায় মানুষের বসবাস অনুপযোগী। কিংবা ক্রমবর্ধিষ্ণু মানুষের চাপ সামলাতে যদি প্রয়োজন হয় কোন বিকল্প কোন গ্রহে বসবাস করার। সেক্ষেত্রে মঙ্গল’ই কি হবে সেই বিকল্প গ্রহ? হতে পারে-

তবে তার জন্য প্রয়োজন হতে পারে বিস্তর গবেষণার। মানব বসতির জন্য মহামূল্যবান পানির অস্তিত্ব সেখানে আছে কি নেই, সে বিষয়ে এখনো কোন স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিজ্ঞানিরা। এ সম্পর্কীত তাদের গবেষণা এখনো চলমান।

মজার ব্যাপার হলো তাদের গবেষণা এবং জরিপকে আরো জোড়ালো ও নির্ভুল করতে অনুসন্ধান চালাবে বাংলাদেশী রোবট! অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই সত্যি।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এন্ড টেকনোলজি (আইইউটি) শিক্ষার্থীদের একটি দল এই রোবটটি তৈরী করেছে। যার নামআইইউটি মারস রোবার’।

যেসব শিক্ষার্থীর অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সাফল্য তারা হলেন, মেকানিক্যাল এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টম্যান্টের পিএম মনিরুজ্জামান মনি, জায়েদ আহমেদ, আবু শাহীদ সুজন। ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মির্জা মুন্তাসির নিশাত, রায়হানুল ইসলাম। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ইনভায়রনম্যান্টাল বিভাগের আসিফ ইকবাল। কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আরাফ ফায়েজ, নাজমুস সাকিব আদনান, রায়হান ইসলাম অর্নব, ইশরাত হায়াত রাতুল, ওসামা ইসলাম, মিনহাজুস সালেকিন ফাহমি। কাজটি সুসম্পন্ন করতে তারা ৬ টি সাবটিমে বিভক্ত হয়েছিলেন।

দলনেতা রায়হান ইসলাম অর্নব বলেন, ‘আমাদের তৈরি রোভার বিশ্বসেরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তৈরি রোভারের সঙ্গে মঙ্গল গবেষণায় অবদান রাখবে এমন একটা ভাবনা থেকেই এই রোবট তৈরির কাজ শুরু করি।’

কবে থেকে কাজ শুরু

২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর। ক্লাসের শেষেই চলতো রোবট তৈরির কাজ। দিনে ক্লাস থাকায় রাতেও নির্ঘুম থেকে কাজ করা হতো। এছাড়াও ছুটির দিনগুলোতে কাজ করা হতো। অর্থায়ন করেছে আইইউটি অথরিটি ও আইইউটি এলামনাই। খরচ পড়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রায় এক ফুট উঁচু রোভারটি তৈরি করতে দীর্ঘ আট মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে।

যা যা লেগেছে

রোবটের চাকা ঘুরানোর জন্য ‘ওয়াইফাই’ ছয়টি মটরের সংযোগ দেওয়া হয়। আর ছয়টি মটরে রয়েছে রয়েছে ছয়টি কন্ট্রোলার। এলোমিনিয়ামের শিট আর পাতের সাহায্যে বডি তৈরি করা হয়। যাতে বডিকে শক্তিশালী রেখে ওজন কমানো যায়। নকশার কাজে ব্যবহার করা হয় নাসার উদ্ভাবন করা ‘বকার বডি মেকানিজম’। এই নকশার সাহায্যে এবড়ো থেবরো রাস্তা খুব সহজে অতিক্রম করা যায়।

রোবটকে কন্ট্রোলের জন্য বডিতে একটি ল্যাপটপ বসানো হয়

দুটো হাতে দেওয়া হয় একচুয়েটর আর তিনটি সার্বো মোটর। পাথুরে রাস্তায় যাতে সহজে চলাচল করতে পারে সেজন্য চাকার উপরে শেভরিন ফিচার ব্যবহার করা হয়। রোবটের ব্রেন পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হয় ‘অরডিউনিও’। এছাড়াও রয়েছে বেজ স্টেশন থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণের জন্য ২.৪ গিগাহার্স এর নেটওয়ার্ক। রোবটের অবস্থান নির্ণয়নের জন্য আছে জিপিএসও। রোবটের ওপর দুটি ক্যামেরা রয়েছে। একটি রোবটকে চালানোর জন্য আরেকটি রোবটের হাতের কাজ করার জন্য।

যেভাবে যাবে মঙ্গলগ্রহে

রকেটের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে পাঠানো যাবে। এর জন্য দরকার পড়বে একটি লনজিং স্টেশন। আর রোবটকে রকেটে বসানোর জন্য রোবটটিকে বেলুন র‌্যাব দিয়ে মোড়াতে হবে। যাতে করে ভেঙ্গে না যায়। কারণ এখানে কোনো মানুষ থাকবে না। তারপর মঙ্গলগ্রহে রোবট নামানোর পর পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পৃথিবী এবং মঙ্গলগ্রহ যদি সূর্যকে ঘিরে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় থাকে তাহলে সময় লাগবে ছয়মাস।

কোন কাজে আসবে

১ ফুট উঁচু রোভারটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে। ছয় চাকাবিশিষ্ট এই রোভারের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো এটা দুর্গম অঞ্চল, যেখানে মানুষের পক্ষে পৌঁছানো সম্ভব নয় সেখানে গিয়ে উদ্ধারকাজ ও বিভিন্ন গবেষণাকাজ সম্পন্ন করতে পারা। এর রয়েছে দুই আঙুলবিশিষ্ট একটি হাত। এ হাতের সাহায্যে পাথর থেকে শুরু করে নানা যন্ত্রাংশ সে সংগ্রহ করে আবার নির্ধারিত স্থানে রেখে আসতে পারে সে। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহনীয় এই রোভারটি আঁকাবাঁকা, উঁচু-নিচু পথ দিয়ে অনায়াসে চলাচল করতে পারে।

প্রতিযোগিতার মঞ্চে

৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫। পোল্যান্ডে ইউরোপিয় রোবার চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছিলো আইইউটি মারস রোবার’। অংশ নিয়ে বিশ্বের ৩৪টি টিমের মধ্যে ১৬তম হয়েছিলো। আর এশিয়ার প্রতিযোগীদের মধ্যে হয়েছিলো দ্বিতীয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে