আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৪:৪০

২০১৬ মাতাবে ব্যবসা ও প্রযুক্তির ১০ ক্ষেত্র

পরাগ মাঝি, বিডিটাইমস ডেস্ক
২০১৬ মাতাবে ব্যবসা ও প্রযুক্তির ১০ ক্ষেত্র

সম্ভাব্য ছুটি উপভোগ করতে আপনি কি যাদু বাস্তবতার সাহায্য নেবেন? আপনি কি চান পেট্রোলের দাম আপনার গাড়িই মিটিয়ে দিক?

প্রযুক্তির কোন ক্ষেত্রটি জিতে নেবে ২০১৬ সালের মুহুর্তগুলোকে?

আমেরিকান প্রযুক্তি বিষয়ক পত্রিকা এ্যসেঞ্চার’র এফজোর্ড সংস্করণ নতুন বছরের ব্যাবসা খাত ও সমাজকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে এমন ১০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

যথার্থতা (The micromoment): কোন কিছু কেনার সময় আপনি দুটি কাজ করেন। হয় আপনি জিনিসটির খোঁজ করেন অথবা আপনি চোখের সামনে থাকা জিনিসটি কিনতে উদ্ধত হন। প্রযুক্তি আমাদের সামনে তৃতীয় আরেকটি দ্বার উন্মোচিত করতে প্ররোচিত করছে। এক্ষেত্রে শ্রবণ প্রযুক্তি আমাদের প্রতিটি কাজকে অনুসরণ করছে এবং প্রতিনিয়ত মতামত দিচ্ছে।

যদি আপনি কোন মাধ্যম থেকে একটি বই কেনেন তবে এমন আরেকটির বিজ্ঞাপন আপনার শপিং পাতায় ভেসে ওঠবে। যদি আপনি কোন গান শোনেন তবে এই ধাঁচের অন্যজনের গানও হিটিং সাইটে শোভা পাবে। এমন সহযোগীতার ক্ষেত্র প্রতিনিয়তই প্রসারিত হচ্ছে।

আমাদের আরো গতিশীল এবং অভিজ্ঞ সিদ্ধান্ত নিতে প্রযুক্তি মোক্ষম সময়ে তথ্য প্রদান করছে। কি পরিমাণ শক্তি আমরা খরচ করেছি, কত কিলোমিটার জগিং করেছি, এমনকি ব্রাশ করতে গিয়ে কতবার আমরা হাত নাড়িয়েছি তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব আমরা জানতে পারি। এই সব তথ্যই আমাদের যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। তথ্যের এই ক্ষেত্র যথাসময়ে আমরা কিভাবে এবং কি ভোগ করবো তার ওপর প্রভাব ফেলবে।

বিনীত সেবা (Services with manners): প্রতি চারজন ভোক্তার তিনজনই মত দেন, তাদের ব্যাক্তিগত তথ্য কারো সংগ্রহে রাখলে তারা কিছু মনে করবেন না। উন্নততর সেবার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করলে তারা এই তথ্য দিয়ে আর কি করতে পারেন এমন চিন্তা থেকে মুক্ত রাখাই আধুনিক প্রযুক্তির বড় একটি ক্ষেত্র।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল শিষ্ঠাচারের ওপর গুরুত্বারোপ করবে এবং গোপনীয়তাকে সম্মান দেবে। শুধু তাই নয়, ভোক্তা যা চাইছে তার প্রকৃত তথ্য সরবরাহ এবং শর্ত পূরণের ক্ষেত্রে ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে কোন গড়মিল যেন না হয় এমন ক্ষেত্র নিয়েও কাজ করবে আধুনিক প্রযুক্তি।

কর্মী অভিজ্ঞতা (The employee experience): চাকরী ক্ষেত্রে কর্মীরা এক দাগে কাজ করতে আর আগ্রহী নয়। সর্বদা নতুনত্বের ব্যাবহার এবং বিকল্প চাকরির সুযোগ তারা প্রায়শই নেবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি নির্ভর চাকরি তাদের সামনে এই পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী অভিজ্ঞতাকে পূণঃনিরীক্ষনের মাধ্যমে মেধাবীদের নিজের করে পেতে চাইবে। ক্ষমতায়ন, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং পুরস্কারের চর্চা ও সংস্কৃতি তৈরী করবে।

উধাও হবে অ্যাপস (Disappearing apps): আমরা অ্যাপসের দুনিয়ায় বসবাস করছি। কিন্তু প্রযুক্তি এত দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে যে, অ্যাপসের দুনিয়াও বেশিদিন টিকবেনা। অ্যাপস এখন ব্যাবহারকারীদের জীবনে অনেক বেশি সক্রিয়। আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম একটি ক্ষেত্র হচ্ছে একের ভেতর অনেক অ্যাপসকে স্থাপন করা এবং এসব অ্যাপসের চিরায়ত স্থান আপনার স্মার্টফোন কিংবা ট্যাব থেকে সরিয়ে ফেলা। আর ওই যে বলেছিলাম গাড়ি মেটাবে পেট্রোলের দাম কিংবা মুদি দোকানের খরচ এটাও এখন গবেষনাধীন।

নাগরিক সুবিধার সমতা (The flattening of privilege): অনেক সেবাই এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। পাঁচতারা হোটেলের খাবার কিংবা ড্রাই ওয়াশ ডেলিভারি যাই বলুন না কেন অ্যাপস ব্যাহারের মাধ্যমে যে কেউ এসব সেবা পেতে পারবেন।

জনগনের জন্য সরকার (Government for the people): প্রযুক্তি মানুষকে তাদের সরকার সম্পর্কে কেবল আরো বেশি তথ্যই দিচ্ছেনা বরং নাগরিক নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন বৈশ্বিক ক্ষেত্র এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য থাকবে হাতের মুঠোয় (Health in our own hands): আমরা কি খাবো এবং কিভাবে শরীর চর্চা করবো তার সবকিছুই জানা যাবে এ্যাপসের মাধ্যমে। ব্যাবহারিক প্রযুক্তি আমাদের স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা জানাবে। ২০১৯ সালের মধ্যে এই ক্ষেত্রটির ছয়শো শতাংশ অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে। ব্যাবহারিক প্রযুক্তির এমনসব বাস্তব বুদ্ধি সম্পন্ন ডাক্তারি মেশিন আসবে, যা হয়তো ১০০ ডলারেরও কম মূল্যে পাওয়া যাবে।

বাস্তবতার আলোয় যাদুবাস্তবতা (Virtual reality is finally a reality): বিভিন্নভাবে ভিডিও গেমসগুলোতে কাল্পনিক বাস্তবতার প্রয়োগ ঘটানো হচ্ছে। কিন্তু পড়াশোনা, ভ্রমণ এবং স্বাস্থ্যখাতে এর প্রভাবকে এড়িয়ে যাবার কোন উপায় নেই। আরো আধুনিক প্রযুক্তি এবং সহজ মূল্যের জন্য আমাদের জীবনে কাল্পনিক বাস্তবতারও বাস্তব উপযোগীতা তৈরি হয়েছে।

সরলতার প্রত্যাবর্তন (The return of simplicity): ভোক্তা হিসেবে পূর্বের চেয়ে আমাদের কাছে আরো বেশি বিকল্প রয়েছে। জানা যায়, একজন ভোক্তা একাই খাদ্য সম্পর্কে সারাদিনে ২০০টি সিদ্ধান্ত নেয়। অমিত সম্ভাবনার এই পৃথিবীতে সরলতা আবারো ফিরে আসছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ ডটকম/পিএম/একে

উপরে