আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৯:৫৯

জামায়াত নাকি ঐক্যফ্রন্ট, কাকে ছাড়বে বিএনপি?

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াত নাকি ঐক্যফ্রন্ট, কাকে ছাড়বে বিএনপি?

২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। দলটির অন্য জোটের ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলেছেন। এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে যে- জামায়াত নাকি ঐক্যফ্রন্ট কাকে ছাড়বে বিএনপি? তবে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলেছি। তারা বলেছে, জামায়াত ধানের শীষে নির্বাচন করেছে, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তো নাই। তারপরও আমরা বিষয়টির সুরাহা চাই।

এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফরোম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা অতীতে জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতির চিন্তাও করিনি। ভবিষ্যতেও পরিষ্কার যে, জামায়াতকে নিয়ে রাজনীতি করবো না।

বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে বলবেন কিনা-এ প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, এটি বলা যেতে পারে।

গত বছরের ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি এবং কয়েকটি ছোট দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট ঘোষণা করে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিএনপির ৬ জন এবং গণফোমের ২ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পথ চলছে বিএনপি। এরমধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকাতে ২০ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে জামায়াত ছিল বিএনপির রাজপথের অন্যতম সঙ্গী। এরই প্রতিদান হিসেবে নিবন্ধন না থাকার পরও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ২২ জন নেতাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করার সুযোগ করে দেয় দলটি। তবে ভোটের মাঝপথে বিএনপির সাথে আলোচনা না করেই জামায়াত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও বয়কট করে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির সাথে জামায়াতের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো ছিল। বিশেষ করে ২০০১ সালে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেয়া দেয়ায় বিএনপিকে এখন অনেকেই সহ্য করতে পারে না। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক দণ্ড- এমনকি ফাঁসি দেওয়ার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ওই সময় বিএনপিকে পাশে পায়নি জামায়াত। পরে বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিলে সেগুলো সমর্থন দিলেও রাজপথে ছিল না জামায়াত।

তবে ঐক্যফ্রন্টের সাথে জোট হওয়ার পরে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়। নতুন জোট গঠনের পর বিএনপি কার্যত ২০ দলকে পেছনে ফেলে নতুন মোর্চার নেতাদের বেছে নেয়। আর নতুন জোটের কেউ জামায়াতকে মেনে নিতে পারেনি। এমনকি জামায়াতকে ছাড়তে যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির সাথে আসনেনি।

এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে অতীতে যেটা হয়েছে, সেটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। তারা যে ধানের শীষে জামায়াতের ২২ জনকে মনোনয়ন দেবে, সেটি আমরা জানতাম না।

বিষয়টি জানতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমি এখনো দেখি নাই। আর এই সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব কথা বলবেন।

পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করা হলে তার মোবাইল ‘ফোন’ বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে