আপডেট : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:২০

সম্পাদকদের কাছে কী চাইলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা?

অনলাইন ডেস্ক
সম্পাদকদের কাছে কী চাইলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা?

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে জন্য সম্পাদকদের কাছ থেকে সব রকম সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান হোটেল লেকশোতে পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দরা মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে এক প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোক্তা কামাল হোসেন বলেন, সম্পাদকদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘন্টা মতবিনিময় হয়েছে। মতবিনিময়ে খুবই মূল্যবান হয়েছে। কারণ সম্পাদকরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পেতে আমাদের কাছ থেকে তারা কী আশা করেন, সে বিষয়ে তারা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আর আমরা যারা বিরোধী আছি- তাদেরও কর্তব্য আছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়।

ড. কামাল বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে সম্পাদকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। অতীতে তারা কী কী দেখেছেন। এগুলো থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হয় এবং সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করতে হয়।

ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের যেসব বিষয় আমরা চিহ্নিত করেছি, আশা করি- সংবাদপত্রগুলো সেসব বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রশ্ন ছিল, যদি আপনারা বিজয়ী হোন তাহলে আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হবেন কে? এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের জিতলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ঐক্যফ্রন্টের যে জনসভাগুলো হয়, সেখানে আমি দেখেছি যে, পবিত্র কোরআন, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কী না? এগুলোতে সবাই একমত কী না? এছাড়া আমি উনাদের কাছে জানতে চেয়েছি, ১৫ আগস্টে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্টের বিষয়ে কোন ঐক্যবদ্ধ চিন্তা আছে কী না?এগুলো নির্বাচনে আগে আমাদের সামনে লিখিতভাবে উপস্থাপন করবেন কী না?

তিনি জানান, আরেকটি প্রশ্ন ছিল, এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দুটি বিশাল উদযাপন আছে। একটি হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। আরেকটি হচ্ছে- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী। নির্বাচনে বিজয়ী হোন বা পরাজিত হন- এই উৎসগুলো সকলে মিলে পালন করবেন কী না? এসব বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেছেন, এগুলো বিষয়ে তারা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবেন।

শুক্রবার বিকালে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ওই আলোচনা সভা। নির্বাচন কিভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে, এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের মতামত চেয়ে বক্তব্যের সূত্রপাত করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, আমাদের নতুন সময় সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সাপ্তাহিক ২০০০ সম্পাদক গোলাম মুর্তজা, ভয়েস অব আমেরিকার ব্যুরো চিফ আমির খসরু, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, ইনকিলাবের যুগ্ম সম্পাদক মুন্সি আবদুল মান্নান, এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম সম্পাদক আবু তাহের, বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, যুগান্তরের চিফ রিপোর্টার মাসুদ করিম, সমকাল চিফ রিপোর্টার লোটন একরামসহ প্রমুখ।

এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ প্রমুখ মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।

উপরে