আপডেট : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:৩১

যুদ্ধাপরাধীর ছেলেকে মেনে নিতে নারাজ বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধাপরাধীর ছেলেকে মেনে নিতে নারাজ বিএনপি

নির্বাচন নিয়ে শেরপুরে রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। সাংগঠনিকভাবে শেরপুর-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান বেশ শক্ত। ১৯৯৬ সাল থেকেই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে।

এই আসন থেকে পরপর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিক। সংসদে সরকারি দলের হুইপ আতিক আগামী নির্বাচনেও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে তার মনোনয়ন পাওয়ার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছানোয়ার হোসেন ছানু। দলের আরও বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও আলোচনা কেন্দ্রীভূত এ দুজনকে ঘিরেই।

অন্যদিকে জোটের রাজনীতির স্বার্থে বিগত চারটি জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-১ আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। যে কারণে ধানের শীষ না পেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের হতাশা নেমে আসে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিএনপির নেতারা। তারা এবার আর এই আসনে জামায়াতকে ছাড় দিতে চান না।

এই আসনে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীকে নিয়েই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা।

তবে জামায়াত রাজনৈতিকভাবে মাঠে না থাকলেও ফাঁসি কার্যকর হওয়া কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইমাম ওয়াফি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করছেন। যদিও তাকে মেনে নিতে নারাজ বিএনপির একটি বড় অংশ।

একবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুবাদে এলাকার উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতিউর রহমান আতিকের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকার মনোনয়ন চাচ্ছেন।

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে দলের ভেতর আতিকবিরোধী একটি বলয় তৈরি হয়েছে। ওই বলয়ের নেতাকর্মীরা ‘আতিক ছাড়া নৌকা’র দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের আশীর্বাদ নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানোয়ার হোসেন ছানু। তার সঙ্গে রয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারমান হুমায়ুন কবীর রুমান ও জেলা যুবলীগ সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব।

হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, এবারের নির্বাচনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে এবং দলীয় মনোনয়নে বিজয় নিশান আমার হাতেই উড়বে বলে বিশ্বাস ও ভরসা রাখি। দলের ভেতরকার কিছু লোক যারা আমার বিরোধিতা করছেন, একসময় তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন বলে আমি মনে করি।

ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, ‘এমপি আতিকের দিন শেষ হয়ে গেছে। তাকে এখন আর মানুষ চায় না। তিনি নিজেকে দুঃখিনী মায়ের সন্তান বলে মাঠে ময়দানে বক্তব্য দিলেও এখন মানুষ তার বাড়ি-গাড়ি, সহায়-সম্পত্তির সব খবর জানে। এলাকার মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, তাই আমি দলীয় মনোনয়নের জন্য মাঠে নেমেছি।’

এই আসনে আওয়ামী লীগের আরও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামছুন্নাহার কামাল, প্রজন্ম একাত্তরের  কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে শেরপুর সদর আসন থেকে খন্দকার আব্দুল হামিদ ও ১৯৯৬ সালের ১৫  ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বিএনপি  থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তারা দুজনই প্রয়াত। এরপর জোটগতভাবে নির্বাচনের কারণে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা কামারুজ্জামানকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। কিন্তু পরপর চারবার জোটগতভাবে এবং একবার দলীয়ভাবে নির্বাচন করেও কামারুজ্জামান জয়ের মুখ দেখেননি।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর এই আসনে বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের দাবি জোরালো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও সেই দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করেছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শেরপুরে বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী। ২১ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষে ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আরও রয়েছেন তৌহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

এদিকে শেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইলিয়াস উদ্দিনকে এই আসনে দলীয় প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে