আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:২৮

নির্বাচনের আগে সচিবালয়ে বিদ্রোহের ‘নীলনকশা’!

অনলাইন ডেস্ক
নির্বাচনের আগে সচিবালয়ে বিদ্রোহের ‘নীলনকশা’!

নির্বাচনের আগে সচিবালয়ে একটা বিদ্রোহ ঘটাতে চায় বিএনপি। এই বিদ্রোহে পদোন্নতি বঞ্চিত আমলাদের একত্রিত করার কাজ করছেন সদ্য অবসরে যাওয়া সাবেক তিন সচিব। এই আমলাদের তিনজনই আওয়ামী লীগ শাসনামলে সচিব হয়েছেন। দুজন চিহ্নিত বিএনপি হওয়ায় ভালো পোস্টিং পাননি। অন্যজন আওয়ামীপন্থী এক সচিবের বেয়াই হওয়ায় ভালো পদে ছিলেন।

এই তিন সচিবের একজন বিএনপি-জামাত আমলে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ছিলেন। অন্যজন ড. ইয়াজউদ্দিনের নেতৃত্বে সরকারের সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্ব পান। তৃতীয় জন বিএনপিপন্থী আমলাদের নেতা। এই তিনজনের সঙ্গে আছেন সদ্য পদোন্নতি পাওয়া বিএনপি আমলের কয়েকজন মন্ত্রীর একান্ত সচিবগণ।

জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বে একটি টিমের সঙ্গে এই আমলারা কাজ করছে। এরা সারাদেশে মাঠ প্রশাসনের তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নাম আছে। এই সব মাঠ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই মাঠ কর্মকর্তাদের অন্তত অর্ধেক নির্বাচনে হয় বিএনপির পক্ষে থাকবে অথবা নিরপেক্ষ থাকবে বলে ঐ কর্মকর্তারা মত দিয়েছেন। সচিব পর্যায়েও অন্তত ১২ জন সচিব বিএনপির পক্ষে কাজ করবে বলে বিএনপিপন্থী ঐ সাবেক তিন আমলা মত দিয়েছেন।

তবে, নির্বাচন নয়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আন্দোলনে সচিবালয়কে সম্পৃক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপিপন্থী আমলাদের। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটে, তাহলে সচিবালয়ে সরকারবিরোধী বিদ্রোহ সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে। এই বিদ্রোহে শুধু বিএনপিপন্থীরা নন, সঙ্গে সঙ্গে পদোন্নতি বঞ্চিতদের শামিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পদোন্নতি বঞ্চিত অনেক আমলার সঙ্গে বিএনপি থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত তিন আমলা যোগাযোগ করেছেন। যোগাযোগ করা হচ্ছে বিশেষ করে ৮৪ ব্যাচের যারা এখনো সচিব হতে পারেননি, ৮৫ ব্যাচের কিছু কর্মকর্তা এবং ৮৬ ব্যাচের যাঁরা অতিরিক্ত সচিব হতে পারেননি তাঁদের সঙ্গে।

সচিবালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তফসিল ঘোষণার পরপরই বিএনপিপন্থী আমলাদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। তারা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে বৈঠক করছেন। জানা গেছে, বিএনপিপন্থী আমলারা তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এগুলো হলো_

১. সারাদেশে বিএনপিপন্থী সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। তারা যেন অভিন্ন চিন্তা ও নির্দেশনার কাজ করতে পারে সেই নেটওয়ার্ক তৈরি করা। 

২. নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট মাঠ প্রশাসনের মধ্যে থেকে যাঁরা বিএনপিপন্থী আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ।

৩. সচিবালয়ে কর্মচারি ও কর্মকর্তাদের সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করা, তাঁরা যেন ৯০ এ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন বা জনতার মঞ্চের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ এই তৎপরতা সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি রিপোর্ট সরকারের উচ্চপর্যায়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র-বাংলা ইনসাইডার

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে