আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫১

সত্যিই কি নির্বাচন করবেন জোবায়দা?

অনলাইন ডেস্ক
সত্যিই কি নির্বাচন করবেন জোবায়দা?

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনিশ্চয়তা কাটেনি। সেটি এখনও ঝুলে আছে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তার ১৭ বছরের সাজা হয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দুই বছরের বেশি সাজা হলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। উচ্চ আদালত যদি খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করেন, সে ক্ষেত্রেই কেবল তিনি নির্বাচন করতে পারবেন।

একই অবস্থা বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের। একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি এখন লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তার যাবজ্জীবন দণ্ড হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারেক রহমানও নির্বাচন করতে পারবেন না-যদি উচ্চ আদালত দণ্ড মওকুফ না করেন।

এ ছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে আসতে পারবেন কিনা সেটি নিয়েও রয়েছে নানা শঙ্কা। তাই তিন আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ফরম কেনা হলেও তারেক রহমানের জন্য কোনো আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়নি।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত হতে পারবেন কিনা সেটি নিয়েও সন্দিহান বিএনপি নেতাকর্মীরা। যদিও দলটির আইনজীবী নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে বেশ আশাবাদী। খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে তারা আপিল করবেন উচ্চ আদালতে।

সম্ভবত খালেদা জিয়াকে ছাড়া এবারই প্রথম নির্বাচনের কঠিন মাঠ চষে বেড়াতে হবে দলটির শীর্ষ নেতাদের।

যদিও খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনে মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। স্বামী জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া জেলার দুটি ও পৈতৃক বাড়ি ফেনী থেকে একটি মনোনয়ন ফরম নেয়া হয়েছে তার জন্য।

এদিকে দলের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি ফরম কেনা হলেও তিনি যদি নির্বাচন করতে না পারেন, তবে জিয়া পরিবারের সদস্যরা ওই সব আসনে নির্বাচন করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে এই তিনটি আসনের মধ্যে দুটি আসন ছেড়ে দেয়া হবে তার দুই পুত্রবধূর জন্য। একটি বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, অন্যটি প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথির জন্য।

দুজনই বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। নির্বাচনের আগে তারা দেশে ফিরবেন কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়ার গণসংযোগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে কোনো আসনে প্রচারে গেলে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হন। প্রার্থীরাও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হন।

এবার হয়তো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদের। এ জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাওয়া জিয়া পরিবারের কেউ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিক এবং প্রচার-গণসংযোগে নেতৃত্ব দিক।

এ ক্ষেত্রে তারেক রহমান যেহেতু দেশে আসতে পারছেন না কিংবা তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম কেনা সম্ভব হয়নি, তাই জোবাইদা রহমান নেতাকর্মীদের অটো চয়েজ। তারা চাচ্ছেন-স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জোবাইদা নির্বাচনী প্রচারে এলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠবেন।

তবে জোবাইদা রহমানের দেশে আসা কিংবা নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে বিএনপির জেষ্ঠ নেতারা এখনই কোনো কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না।

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রের ভাষ্য- লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে জোবাইদা রহমানের পাসপোর্ট আটকা। যে কারণে অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি শাশুড়িকে দেখতে আসতে পারেননি। তাই নির্বাচনের আগে তার দেশে আসাটা অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের রাজনীতিতে আসার গুঞ্জন নতুন নয়। বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে-জিয়া পরিবারের এ সদস্য বিএনপির রাজনীতির হাল ধরবেন। তবে এখনও পর্যন্ত জিয়া পরিবারের কেউ এ বিষয়ে কিছুই বলেননি।

জোবাইদার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী জিয়াউর রহমানের আমলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী জোবাইদার কাকা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন জোবাইদা চিকিৎসকদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হন।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন থেকে রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদক নিয়ে এমএসসি করেছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে