আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ২০:১২

বিএনপির টার্গেট ওরা ১১ জন

অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির টার্গেট ওরা ১১ জন

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি আওয়ামী লীগের ১১ জন মন্ত্রী এমপিকে টার্গেট করেছে। এদের বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করতে চায় দলটি। এই ১১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিএনপি বলতে চাইবে আওয়ামী লীগ দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেয়, মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেয়, সন্ত্রাসীদের লালন করে। বিএনপি নির্বাচনী প্রচার সেল, এই সব এমপি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জন্য বেশ কিছু কনটেন্ট তৈরি করেছে। এদের উপর পোস্টার, লিফলেট এবং প্রামাণ্য চিত্র হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির প্রচারণার সঙ্গে জড়িত এক নেতা বলেছেন, আমরা ঢালাও ভাবে সরকারের সমালোচনা করতে চাই না। আমরা প্রতীকী ভাবে ১১ জনের কার্যক্রম তুলে ধরে বলতে চাই, এটাই হলো আওয়ামী লীগ। বিএনপি যাদের টার্গেট করেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এরকম:

১. এনামুল হক (রাজশাহী-৪): তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদিত ইংরেজি দৈনিকে রিপোর্ট করা হয়েছিল। ঐ রিপোর্টে ঐ এমপিকে ড্রাগ ডিলার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সংসদে তাঁর প্রতিবাদ করলেও তিনি ঐ পত্রিকার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের  সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন পত্রিকায়।

২. হাসানুল হক ইনু (কুষ্টিয়া ২): তথ্যমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অন্যতম প্রবর্তক। হেফাজতের আল্লামা শফিকে তিনি ‘তেঁতুল হুজুর’ বলতেন। সেই তেঁতুল হুজুরই প্রধানমন্ত্রীকে কওমি জননী উপাধি দেয়। এছাড়াও ইনুর বিরুদ্ধে রয়েছে আরও বেশ কিছু অভিযোগ।

৩. মির্জা আজম (জামালপুর-৩): তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ২০০৯ এ বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত। এছাড়াও তাকে শায়খ আবদুর রহমানের আত্মীয় হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও রয়েছে অন্য আরও অভিযোগ।

৫. নসরুল হামিদ (ঢাকা-৩): বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। রামপাল প্রসঙ্গেও তাঁকে আক্রমণ করা হবে।

৫. জাহাঙ্গীর কবির নানক (ঢাকা-১৩): নানকের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত। তাছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ভূমি দখল, এলাকার মাদক ব্যবসার নানা অভিযোগ তোলা হবে।

৬. অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম (ঢাকা-২): তাঁর বিরুদ্ধে পঁচা গম আমদানিসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নানা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে।

৭. শামীম ওসমান (নারায়ণগঞ্জ-৪): তাঁকে নারায়ণগঞ্জের গডফাদার হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এখানে ত্বকী হত্যাকাণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভির কিছু বক্তব্য ফলাও করে প্রচার করা হবে।

৮. শাজাহান খান (মাদারীপুর-২): তাঁকে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা হবে।

৯. মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী (মায়া) চাঁদপুর-২: তাঁর জামাতার নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের প্রসঙ্গটি আনা হবে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরবে বিএনপি।

১০. নিজাম উদ্দিন হাজারী (ফেনী-২):  সন্ত্রাসের নানা অভিযোগ সাজানো হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

১১. আবদুর রহমান বদি (কক্সবাজার-৪):  তাঁকে ইয়াবা সম্রাট হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

বিএনপির একটি সূত্র বলেছে, নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি বলবে, এরাই হলো আওয়ামী লীগ। এদের ‘না’ বলুন।

এদের পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগ কি করবে, সেটাই দেখার বিষয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে