আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:১৭

ব্যারিস্টার মইনুলের ফাঁস হওয়া অডিও বিশ্বাস করে না বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক
ব্যারিস্টার মইনুলের ফাঁস হওয়া অডিও বিশ্বাস করে না বিএনপি

তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করতেই ড. কামালকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নিয়ে আসার বিষয়ে মইনুল হোসেনের ফাঁস হওয়া টেলিফোনালাপকে বিশ্বাস করছে না বিএনপি।

সোমবার রাতে সাংবাদিক রব মজুমদারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়া সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার মধ্যে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ হয় ফেসবুকে।

ওই অডিও রেকর্ডে কামাল হোসেনকে নিয়ে মইনুল হোসেন লন্ডন যাচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, ‘তারেকের সঙ্গে দেখা করব আমরা? তারেকের নেতৃত্ব ধ্বংস করতেই তো আমরা ড. কামালকে ঐক্যফ্রন্টে নিয়ে এসেছি।’

এই তথ্য সত্য হলে সেটি বিএনপির বহুল আকাঙ্ক্ষিত ঐক্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে। তবে বিএনপি এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে না। বরং সিলেটে বুধবার ফ্রন্টের প্রথম জনসভাকে সফল করতে নেয়া হচ্ছে প্রস্তুতি।

যোগাযোগ করা হলে বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, তাদের ধারণা এই অডিওটি বানোয়াট। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘অডিও ক্লিপ ফাঁস সরকারের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি ফসল। যারা জাতীয় ঐক্যকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও তারেক রহমানের নেতৃত্বকে পছন্দ করে না, তাদের ঘর থেকেই এই অডিও ক্লিপ বের হয়েছে। এই অডিও ক্লিপ দিয়ে সরকার যদি এ আন্দোলনকে থামাতে চায় তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।’

অডিওটি শুনেছেন কি না- এমন প্রশ্নে দুদু বলেন, ‘গতকাল টিভিতে একটি অডিও ক্লিপ দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীকে বলব এই অডিও ক্লিপ এর জন্য আপনার পদত্যাগ করা উচিত। তথ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’ ‘টেলিফোনের আড়ালে কান পাতা বেআইনি। এটা সংবিধানবিরোধী, আইন বিরোধী। আপনারা যদি অডিও ক্লিপ টেলিভিশনে প্রচার করেন বা তৈরি করেন তাহলে বলব আপনাদের নির্বুদ্ধিতা আছে। এটা যদি সত্য হয় তাহলে বলতে হবে সরকার তার নৈতিক চরিত্র সব হারিয়েছে।’

ফাঁস হওয়া অডিও সঠিক কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির এটা কোনো চালবাজি কি না জানি না, তবে ঐক্যফ্রন্ট ভাঙার ষড়যন্ত্র হতে পারে। কারণ সরকার তো পদে পদে ফাঁদ পেতে রেখেছে। এগুলোর মাধ্যমে উস্কানি দেয়া হচ্ছে।’

তবে এটি মইনুল হোসেনের বক্তব্য প্রমাণ হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে যে কথা আছে তা নিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা আলাল।

আলাল বলেন, ‘সরকার একদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করছে। অন্যদিকে সিন্ডিকেট করে মানুষের কথাবার্তা প্রকাশ করারও গ্রুপ তৈরি করেছে। তারা প্রচারণা চালাচ্ছে বিরোধীমতের লোকদের টার্গেট করে। আমরা দেখেছি এর আগে নম্বর ক্লোন করে, লিপ মিলিয়ে, কণ্ঠ নকল করে অনেকের বক্তব্য প্রচার করা হয়।’

বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, এই যে অডিওটা এটার উদ্দেশ্য হলো বিভ্রান্তি তৈরি করা। আমাদের কাছে মনে হয় এটা মেইক করা। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর মানুষ যখন আশার আলো দেখছেন তখন এমনটা করা হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করা। আর অডিও সত্য হলেও কিছু আসে যায় না। কারণ মানুষ ঠিক করবে আগামী দিনে কে কি করবে না করবে।’

এমন বক্তব্য সঠিক হলে তা বিএনপির জন্য বিব্রতকর কি না- জানতে চাইলে শহিদুল বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের এ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। আর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না। আইনজীবী ও সাংবাদিক হিসেবে জানি। যদি সত্য হয়েও থাকে তাহলে তো চিন্তা করি না।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে