আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:০৯

নির্দলীয় নয়, সর্বদলীয় সরকার চায় যুক্তরাষ্ট্র-জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক
নির্দলীয় নয়, সর্বদলীয় সরকার চায় যুক্তরাষ্ট্র-জাতিসংঘ

নির্দলীয় সরকার নয় বরং ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনার আলোকে সর্বদলীয় সরকার চায় কয়েকটি বিদেশি দূতাবাস ও প্রতিষ্ঠান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণের এটাই সবচেয়ে ভালো ফর্মুলা বলে মনে করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ।

২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প একটি প্রস্তাবনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। ঐ প্রস্তাবনা ছিল সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাবনা। প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে, সকল দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রদান করেছিলেন। যে রূপরেখায়, তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদানেরও প্রস্তাব ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর ঐ প্রস্তাব দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়। আন্তর্জাতিক মহল প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবনার ভিত্তিতেই নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপি যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঐ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনও বর্জন করে।

এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সাত দফা প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই সাত দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকদের সায় নেই এই প্রস্তাবে। জাতিসংঘও মনে করছে, এই স্বল্পতম সময়ের মধ্যে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন অবাস্তব। বরং ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের বাস্তবায়ন চায় জাতিসংঘ। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে জাতিসংঘের ভাবনাকেই সমর্থন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুটি কারণে ২০১৩ সালের প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। প্রথমত, বিএনপি সহ বেশকিছু দল এবার জাতীয় সংসদের বাইরে। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব এখন এমনিতেই অকার্যকর। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে থাকা দলগুলোকে নিয়ে একটি সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, এখন যেহেতু বিএনপিসহ ২০ দল সংসদে নেই, তাই তাদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন অবাস্তব। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ মনে করে, যে সময় বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী ছিল। এখন আর নেই। বিশেষ করে ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে বিএনপি যে জ্বালাও পোড়াও সন্ত্রাস করেছে, তাতে দলটি সব রাজনৈতিক সহানুভূতি পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে। বিশেষ করে বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়ার দণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট আজ প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। বার্নিকাট মনে করেন, নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় ২০ জন সদস্য থাকলে দুজন অনির্বাচিত সদস্য নেওয়া যায়। তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্তত দুজন সদস্য নিয়ে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে বার্নিকাট মত দিয়েছেন।

অবশ্য বিএনপির নেতারা এখনও মনে করছেন তাদের সাত দফা দাবি যৌক্তিক। শেষ পর্যন্ত সরকার এই দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে। তবে কূটনীতিকদের কয়েকজন মনে করেন, একমাত্র নির্দলীয় সরকারের দাবি ছাড়া ৭ দফার বাকি দাবিগুলোর কয়েকটি তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আপনাআপনিই বাস্তবায়িত হয়ে যাবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে