আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৩১

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যা থাকছে

অনলাইন ডেস্ক
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যা থাকছে

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকছে নানান চমক। নতুন কর্মসংস্থান, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতির উন্নয়ন, চরাঞ্চলের মানুষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, প্রান্তিক জনগণের আধুনিক টেকনোলজির সব সুযোগ সুবিধা ও ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র সম্পদ নির্ভর অর্থনীতির বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পেতে পারে বলে জানিয়েছে দলের হাইকমান্ড।

এরই মধ্যে একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘গ্রামকে শহরে মত আধুনিকায়ন’ করতে হবে। বড় শহরগুলো ছাড়াও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে এগিয়ে নিতে বড় চমকের ঘোষণা থাকবে ইশতেহারে। থাকবে মাদ্রাসায় কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলাও থাকবে নির্বাচনী অঙ্গীকার নামায়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের স্লোগান ছিল ‘দিন বদলের সনদ’। ২০১৪ তে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। আর আগামী ইশতেহারে থাকবে, দেড় কোটি নতুন ভোটারের জন্য নতুন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সমাধানপথ। আগামী দিনের বিভিন্ন দিকগুলো বিবেচনা করে তৈরী করা হবে আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী ইশতেহারের নতুন স্লোগান।’ জঙ্গিবাদ নির্মূল করাও বর্তমান সরকারের আগামী দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ আসবে সমুদ্র অর্থনীতি থেকে। গভীর সমুদ্রের বিশাল অংশ বাংলাদেশের জলসীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নীল পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এসব সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে পাল্টে যাবে দেশের চেহারা। সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্তে এখন বাংলাদেশ। বিশ্বের সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোও বাংলাদেশের ব্লু-ওসান ইকোনমি বা নীল সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। বঙ্গোপসাগরের অফুরান সম্পদ কাঙ্খিত পরিমাণে আহরণ সম্ভব হলে ১০ বছরের মাথায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছবে। এই বিষয়টি সরকার আগামী নির্বাচনে ইশেতেহারে রাখতে পারেন।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, আমার মনে হয় আগামী নির্বচনী ইশতেহারে নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের স্লোগান ছিল দিন বদলের সনদ, ২০১৪ তে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাছাড়া নতুন ভোটার বা তরুণদের জন্য থাকবে চমক। তাদের নানান বিষয় এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে। নির্বাচনী ইশতেহার তৈরীর প্রক্রিয়া চলছে। এখনই সব কথা বলা সময় নয়। তবে অনেক চমক থাকবে।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর বলেন, গ্রাম-গঞ্জের মানুষের সাথে কথা বলে তাদের কাঙ্খিত চাহিদা অনুযায়ী ইশতিহার করা হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী ইশতেহারেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু চমকই থাকবে। যা সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন হবে। উন্নয়নের বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেছেন গ্রামকে শহরে মত আধুনিকায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগণ আধুনিক টেকনোলজির সব সুযোগ সুবিধা পাবে। ইশতেহার নিয়ে দলের মধ্যে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০ বছরের একটি পরিকল্পনা করেছেন, যেটা ‘ডেল্টা ২১০০’ নামে পরিচিত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে