আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:২১

নাটকীয় ঘোষণা নিয়ে জাতির সামনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী!

অনলাইন ডেস্ক
নাটকীয় ঘোষণা নিয়ে জাতির সামনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী!

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার আগেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামি ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরপরই নির্বাচন কমিশন, জাতীয় নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, জাতীয় নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার এটাই রীতি। আনুষ্ঠানিক তফসীল ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য স্ব প্রণোদিত হয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা দেবেন। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

একাধিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বেশ কিছু নাটকীয় ঘোষণা আসবে। এই ঘোষণার পর নির্বাচন নিয়ে সব জটিলতা এবং সংশয়ের অবসান হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবিত ভাষণে সকল রাজনৈতিক দলকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহনের আহবান জানাবেন। তিনি বলবেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব।’ প্রধানমন্ত্রী একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন যেন তাতে ঘটে সে আহবান জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধামন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণে তিনি ২০১৪’র নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেবেন। টানা দুবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশের অগ্রযাত্রার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরবেন।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে আদলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, একই আদলে বাংলাদেশেও নির্বাচন হবে বলে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে কিছু চমক থাকতে পারে বলে আভাষ পাওয়া গেছে। সূত্র মতে, তফসীল ঘোষণার সাথে সাথে বিদায়ী সংসদ সদস্যরা ক্ষমতাহীন হয়ে যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানাবেন। সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয় কোন সুযোগ সুবিধা পাবেন না বলেও ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও মন্ত্রীসভার সদস্যরা শুধুমাত্র দৈনন্দিন কার্যক্রমে সীমিত থাকবেন বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিতে পারেন। মন্ত্রীরা তাঁর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় কোন প্রটোকল পাবেন না বলে ঘোষণা আসতে পারে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, তফসীল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে প্রশাসনের দায়িত্ব পাবেন তারও উল্লেখ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করাই হবে বিদায়ী সরকারের একমাত্র কাজ। 

যদিও সরকার বলছে, নির্বাচনকালীন সরকার বলে কিছু নেই। বর্তমান সংসদের বাইরে কোন মন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে না। কিন্তু একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে, এ ব্যাপারে নাটকীয় ঘোষণা আসতে পারে। সংবিধানে প্রতি দশ জন মন্ত্রীর একজন অনির্বাচিত মন্ত্রী নিয়োগের বিধান রয়েছে। এই বিধানের প্রয়োগ ঘটিয়ে আনুপাতিক হারে কয়েকজন অন্য দলের নেতাকে মন্ত্রী সভায় অন্তর্ভুক্তির চমক দেখাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এরকম হলে, কতজন মন্ত্রী অন্য দল থেকে নেয়া হবে, বা কোন কোন দল থেকে নেয়া হতে পারে, সে সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন,‘ অপেক্ষা করুন।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে