আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৩১

‘ক্ষমতায় আইতাছি মিয়া, এখন কি আর আগের রেট দিলে হইবো’

অনলাইন ডেস্ক
‘ক্ষমতায় আইতাছি মিয়া, এখন কি আর আগের রেট দিলে হইবো’

গুলশানে এক ব্যবসায়ীর অফিসে আ. স. ম. আব্দুর রব প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে যান। ব্যবসায়ী এক সময় ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’র স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন জার্মানিতে কাটিয়ে নব্বই এর দশকে দেশে এসে ব্যবসা শুরু করেছেন। শুধু আ. স. ম. রব নন অনেক জাসদ নেতাই তাঁর কাছ থেকে এসে নিয়মিত মাসোহারা নেন। পুরো দস্তুর ব্যবসায়ী ঐ প্রাক্তন জাসদ কর্মী, তাঁর নেতাদের টাকা দিয়ে আনন্দ পান, রাজনৈতিক আড্ডাতেও মাতেন।

অক্টোবরে ঘটল অন্য রকম ঘটনা। আ. স. ম. আবদুর রব, ঐ ব্যবসায়ীর অফিসে গেলেন না। বেচারা ব্যবসায়ী ভাবলেন, জাতীয় ঐক্য ইত্যাদি নিয়েই হয়তো তিনি ব্যস্ত। কিন্তু গত মঙ্গলবার টেলিফোন করে, আ. স. ম. আবদুর রব মোটা অঙ্কের টাকা চাইলেন। ব্যবসায়ী তো অবাক। বললেন, ‘ভাই হঠাৎ রেট এতো বেড়ে গেল? জবাবে রব বললেন, ‘ক্ষমতায় আইতাছি মিয়া, এখন কি আর আগের মতো দিলে হইবো।’ ঐ ব্যবসায়ী বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আগে ক্ষমতায় আসেন, তারপর না হয় দেবো। এখন আর কিছুই দেবো না।’ ঐ ব্যবসায়ী পরে আলাপচারিতায় বলছিলেন, ‘কেবল একটা জোট করেই এই অবস্থা, ক্ষমতায় এলে এরা কি করবে?’।

শুধু রব একা নন, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সব নেতাদেরই এখন চাঁদার রেট বেড়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ধানমন্ডিতে একটি প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি থেকে গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু মাসে কুড়ি হাজার টাকা নিতেন। মন্টু চলেন মূলত: এরকম মাসিক মাসোয়ারা নিয়েই। কিন্তু ফ্রন্ট গঠনের পর মন্টু জানিয়েছেন, তাঁকে এক লাখ টাকা দিতে হবে। ঐ ব্যবসায়ী বললেন, ‘দুর্দিনে ওনাকে সাহায্য করেছি। আগে এই টাকার জন্য এসে বসে থাকতেন অথচ কি এক জোট করেই দাপট দেখাচ্ছেন। এরা দেশের কি করবে?।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুরেরও প্রধান পেশা চাঁদাবাজি। তাঁকে নিয়মিত সহায়তা করতেন এরকম একজন ব্যবসায়ী জানালেন, ‘একরকম ভিক্ষে করেই চলছেন মনসুর ভাই। এই জোট গঠনের পর নানা উসিলায় টাকা চাইছেন।’ ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এসব জোট হলেই আমাদের উপর চাপ বাড়ে। আজ অমুক প্রোগ্রাম, কাল তমুক প্রোগ্রাম ইত্যাদি নানা অজুহাতে টাকা চাওয়া হচ্ছে।

মাহমুদুর রহমান মান্নার নিজস্ব গার্মেন্টস ব্যবসা আছে। তিনিও রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নিয়মিত চাঁদাবাজি করেন। ইদানীং তারও রেট প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এইসব খুচরা নেতাদের চাপে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। এরকম একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা যে ঘুরে ফিরে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি চাই, তাঁর প্রধান কারণ হলো এদের চাঁদাবাজি। আওয়ামী লীগ বিএনপির নেতারা এসব করেন না। বড়জোর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য সহযোগিতা চায়। কিন্তু এসব নেতাদের জন্য রাজনীতি একটা ব্যবসা। এরা দেশের জন্য কী করবে।‘

খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিভিন্ন কর্মসূচি উপলক্ষে রব-মান্না-সুলতান তিনজনই আলাদা আলাদা ভাবে চাঁদা তুলছেন। ২৩ অক্টোবর সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা হওয়ার কথা। এই জনসভা উপলক্ষে তিনজনই মাঠে নেমেছেন। এদের চাঁদাবাজি দেখে বিএনপির নেতারাও লজ্জায় কুঁকড়ে গেছেন।

সূত্র-বাংলা ইনসাইডার

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে