আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:০১

সন্ত্রাসীদের টার্গেটে আওয়ামী লীগ নেতারা!

অনলাইন ডেস্ক
সন্ত্রাসীদের টার্গেটে আওয়ামী লীগ নেতারা!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের টার্গেট করছে সন্ত্রাসীরা। সরকারের শেষ বছরে গত ৮ মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ১৩ নেতার খুন হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সিলেট ও চাঁদপুরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। এছাড়া গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কুমিল্লার ঘটান উল্লেযোগ্য।

আট মাসের এই হত্যাকাণ্ডে সর্বশেষ ৩ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকায় রানীগ্রাম মধ্যপাড়া মহল্লায় ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফাকে (৪০) হত্যা করা হয়। রানীগ্রাম বাজারের চায়ের দোকানে কয়েকজন দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে মোস্তফাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। তাঁকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ১ অক্টোবর বাগেরহাটে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে করা খুন হয়। জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন পরিষদে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী দিহিদার (৫৩) ও আওয়ামী লীগ কর্মী শুকুর শেখকে (৪২) হত্যা করা হয়।

৩১ আগস্ট রাতে সিলেটে ছুরিকাঘাতে এসএম আবদুল আহাদ নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা খুন হয়েছেন। নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার সিটি সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এস এম আবদুল আহাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুয়েত শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট বিভাগীয় লেখক ফোরাম কুয়েত শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৫ আগস্ট কক্সবাজারের মহেশখালীর আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা জিয়াবুলকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত জিয়াবুল মাতারবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

১ জুলাই গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ইটভাটা ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান ওরফে টিটো শরীফ (৪৪) নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। ৩ জুলাই ময়মনসিংহের ত্রিশালে আ. মতিন মাস্টার (৬৫) নামে এক মুক্তিযোদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ছিলেন। ৯ জুলাই প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান বাবু (৪৫) নিহত হন। তিনি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

৫ জুন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহিনা সুলতানা ফেন্সি (৫৭) খুন হন। শহরের ষোলঘর পাকা মসজিদের দক্ষিণ পাশে নিজস্ব বাসভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ জুন ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি এবং ব্যক্তিগত দ্ব›েদ্বর জেরে বাড্ডায় আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন (৫০) খুন হন। তিনি উত্তর বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৮ জুন নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের বাদেবহর গ্রামের ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি হারেছ মিয়া দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। ১৩ মে খুন হয়েছেন যশোর জেলা তরুণ লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মনিরুল ইসলাম (৩৮)। শহরের পালবাড়ি মোড়ে কুপিয়ে ও বোমা মেরে মনিরুল ইসলামকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সস্তোষ ঘোষ (৩৫) নামের অপর এক যুবক আহত হন। ৪ এপ্রিল রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক যুবলীগ নেতা আবুল হাশেম প্রকাশের দ্বগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৮ মার্চ কুমিল্লার তিতাসে একটি হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে খুন করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেনকে। তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জগতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকে ঘিরে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হচ্ছে। পত্র-পত্রিকার তথ্যে দেখা গেছে অনেক সন্ত্রাসী জামিনে বের হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, তবে এবার আওয়ামী লীগ নেতাদের টার্গেট করেই একটি মহল সন্ত্রাসীদের সক্রিয় করছে। সময়ের সাথে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রুমা

 

উপরে