আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫১

‘আপনারা রেডি হন, সরকারের পতনের সময় আসছে'

অনলাইন ডেস্ক
‘আপনারা রেডি হন, সরকারের পতনের সময় আসছে'

সাড়ে তিন বছর আগে সরকার পতনের আন্দোলনে নেমে খালি হাতে ঘরে ফেরা বিএনপি থেকে আবার একই আন্দোলনে নামার ঘোষণা এসেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই আন্দোলন শুরু হবে জানিয়ে নেতা-কর্মীদেরকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১’ এর আয়োজনে এক যুব সমাবেশে কথা বলছিলেন বিএনপি নেতা।

নেতাকর্মীদেরকে মওদুদ নেতা বলেন, ‘আগামী ১ অক্টোবর থেকে রেডি হয়ে যান। কঠোর আন্দোলন করতে হবে। আগামী তিন মাসে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ মাঠে আশা করি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।’

‘আপনারা রেডি হন। সামনে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে হবে।'

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তির দিন সরকার পতনের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেয়। পরে এই কর্মসূচি অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পর এই কর্মসূচির পাশাপাশি হরতালেরও ডাক দেয় তারা। তবে পরে দুটি কর্মসূচিই এক পর্যায়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং বিএনপি খালি হাতে ঘরে ফেরে। এরপর নানা সময় হুমকি দিলেও আর আন্দোলনে যায়নি দলটি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ নানা দাবিতে আবার আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলছে বিএনপি। নানা সময় আন্দোলন শুরুর ঘোষণাও এসেছে, কিন্তু আর আগায়নি। সব শেষ ১ সেপ্টেম্বর থেকেও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। যদিও সেদিন সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই করেনি তারা।

এর মধ্যে অবশ্য নামসর্বস্ব দল গণফোরাম আর তৃতীয় শক্তির হওয়ার বাসনায় যুক্তফ্রন্ট নামে আত্মপ্রকাশ করা যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে ঐক্য গড়তে চাইছে বিএনপি। আর অক্টোবর থেকে একযোগে কর্মসূচির ঘোষণাও এসেছে।

এর মধ্যে আবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে মামলায় পড়ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ নিয়েও কথা বলেন মওদুদ। বলেন, ‘আগে কয়েক বছর আগের কোন ঘটনায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাত। আর এখন ভৌতিক মামলা ও গায়েবি মামলা দেয়। কোন ঘটনা ঘটার প্রয়োজন নেই। এমনিতেই মামলা দেয়।'

‘গত ২১ দিনে চার হাজার মামলা দিয়েছে। আর এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার জনকে। এই মামলা করতে আওয়ামী লীগ তাদের স্থানীয় নেতাদের ব্যবহার করেছে। তারা তালিকা পাঠিয়েছে। আর পুলিশ মামলা করেছে।’

‘আসামিদের সবগুলো নামের ঠিকানা ও পিতার নাম সঠিক আছে। মৃত ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে এটা হয়তো ভুল হয়েছে। সুতরাং এটা একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রেই এটা সম্ভব।’

মওদুদ বলেন,‘এই সরকার হলো নীতি-নৈতিকতাবিহীন। তাদের নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু নেই। আওয়ামী লীগ হলো মিথ্যাচারের চ্যাম্পিয়ন। কেউ তাদের সাথে মিথ্যাচারে কনটেস্ট করে পারবে না।'

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি

সব দুর্নীতিবাজ এক হয়েছে আরেক দুর্নীতিবাজকে বাঁচাতে- জাতীয় ঐক্যের নেতাদেরকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মওদুদ। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঐক্য প্রক্রিয়াকে প্রথমে স্বাগত জানিয়েছেন।...ঐক্য হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সহ্য হচ্ছে না। কারণ তারা জানে জাতি যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে যে কোন স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব। আইয়ুব খান পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি নেতা বলেন,‘আপনার এই কথা আপনি প্রত্যাহার করুন। তা না হলে রাজনীতিতে কোন শালীনতা আর থাকবে না।’

সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপন এতে সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমলেও এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পেরেছে। কিন্তু এখন পারে না। তাই আমাদেরকে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।’

উপরে