আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৮

যে কোনো শর্তে মুক্তি চান খালেদা জিয়া

অনলাইন ডেস্ক
যে কোনো শর্তে মুক্তি চান খালেদা জিয়া

কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গতকাল শুক্রবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান তাঁর স্বজনরা। আত্মীয়দের মধ্যে ছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিমা ইসলাম, ভাবি কানিজ ফাতেমা, ভাইয়ের ছেলে অভিক ইস্কান্দার, অনিক ইস্কান্দার, ও ভাগনে ডাক্তার মামুন। খালেদার সঙ্গে স্বজনদের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে যে কোনো শর্তে মুক্তি চান। এমনকি নির্বাচন না করার শর্তেও মুক্তিতে আপত্তি নেই বিএনপি চেয়ারপারসনের।

কারাগারে শামীম ইস্কান্দার, সেলিমা ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খালেদা জিয়া প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী আলাপ-আলোচনা করেন। এই আলাপে খালেদা জিয়াকে নিজের শারীরিক অবস্থার চেয়ে নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়েই বেশি কথা বলতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া মনে করছেন যদি তাকে জেলে রেখে বি. চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেনদের নিয়ে ঐক্য করা হয় তাহলে ওই ঐক্যের আন্দোলনের ফসল অন্যদিকে চলে যেতে পারে। বেগম জিয়ার আশঙ্কা, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃবৃন্দের যে কোনো মুহূর্তে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় বিএনপির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন খালেদা জিয়া। এসব কারণে খালেদা জিয়া মনে করছেন, তাঁর মুক্তির বিষয়টি খুবই জরুরি।

এর আগেও বিএনপির পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ চলে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে খালেদা জিয়াই সেই সমঝোতা থেকে সরে আসেন। কিন্তু এখন মত পাল্টেছেন খালেদা জিয়া। যে কোনো শর্তে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইছেন তিনি। কারণ খালেদা জিয়া আশঙ্কা করছেন, বিএনপি ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলেও ঐক্যের একটি পর্যায়ে নেতারা ডিগবাজি দিতে পারেন। তখন তাঁর মুক্তি ও মামলা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। তাই শামীম ইস্কান্দারসহ স্বজনদের তিনি অনুরোধ করেছেন তাঁর মুক্তির ব্যাপারে সচেষ্ট হতে।

খালেদা অনুরোধে কালকের সাক্ষাৎ শেষ করেই সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন তাঁর ভাই শামীম ইস্কান্দার। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আবার নতুন করে আলোচনা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে সরকার এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

উপরে