আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৩৪

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতা?

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতা?

নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। তিনি দফায় দফায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নির্বাচনে সমঝোতার চেষ্টা করেন।

বরাবরই জাতিসংঘ বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে কোনো সংকট সমাধানের চেষ্টা করে। তবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের নির্বাচনে সমঝোতায় ব্যর্থ হয় জাতিসংঘ।

ওই ব্যর্থতা সত্ত্বেও জাতিসংঘ এবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে ভূমিকা রাখতে পারবে এই আশায় সেখানে অভিযোগ উত্থাপন করেছে বিএনপি। ওই অভিযোগের শুনানিতে অংশ নিতেই গতকাল রাতে নিউইয়র্কে রওনা হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঙ্গী হয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। আবার লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পৌঁছে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেবেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব হুমায়ুন কবির।

জাতিসংঘের বাংলাদেশ বিষয়ে শুনানি নিয়ে অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে, আসলে কী হবে সেখানে? নিউইয়র্ক থেকে কতটা প্রত্যাশা পূরণ হবে বিএনপির?

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘে আগেই যে আলোচনা ছিল তারই দ্বিতীয় অধ্যায় হবে এবার। জাতিসংঘের কমিটির কাছে মির্জা ফখরুল তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। ওই সময় জাতিসংঘের কমিটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের কমিটির সঙ্গে আলোচনায় থাকতে পারেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গতবার বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে করলেও এবার তা হচ্ছে নিউইয়র্কেই। সেখানে সরকার ও বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালাবে।

জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কোনো দেশের রাজনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টায় প্রথমেই বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। বাংলাদেশের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে তাই বিএনপির কাছে জানতে চাওয়া হতে পারে তারা সর্বনিম্ন কি শর্তে নির্বাচনে যাবে। অপরদিকে সরকারের কাছে জানতে চাইবে সর্বোচ্চ কতটুকু ছাড় তারা দিত পারে। এরপর চলবে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতার।

তবে জাতিসংঘের এমন সমঝোতার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের অন্য সংকটগুলোর বিষয়েও তুলে ধরা হতে পারে। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ অযাচিত হয়ে দেখা দিলে দেশের রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে বাংলাদেশ জর্জরিত। এই সংকট নিরসনে নূন্যতম কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি জাতিসংঘ। মিয়ানমারকে সংকট নিরসনে কোনোভাবেই চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না তারা। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের চেয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে জাতিসংঘকে তৎপর হওয়ার কথা বলতে পারে সরকার।

জাতিসংঘ বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েই যেহেতু কার্যকর নিতে পারছে না, সেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কতটা সফল হবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। তাই নিউইয়র্ক থেকে শূন্য হাতেই ফিরতে হতে পারে বিএনপি নেতাদের। এক্ষেত্রে জাতিসংঘে বিএনপির অভিযোগে শুনানিকে সান্ত্বনা পুরস্কার বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে