আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ২০:২০

ড.কামাল-বি.চৌধুরী বাদ, ‘ট্রাম্পকার্ড’ এরশাদ?

অনলাইন ডেস্ক
ড.কামাল-বি.চৌধুরী বাদ, ‘ট্রাম্পকার্ড’ এরশাদ?

বিএনপির সঙ্গে জোটে আগ্রহী দু’পক্ষই। ভোটের হিসেবে দু’পক্ষের কাছেই মহামূল্যবান বিএনপি। কিন্তু বিএনপি কার সঙ্গে যাবে? দুপক্ষ হলো অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট এবং ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। তবে বিএনপি দুই জোটের কোনটিতেই হয়তো শেষ পর্যন্ত যাবে না, বরং ২০ দলীয় জোটেই নির্বাচনে যাবে। বিএনপি কোন পথে যাবে সেটাই এখন মহামূল্যবান প্রশ্ন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ মোর্চা গঠনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি যেমন বি. চৌধুরীর ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটে গেছেন। সেখানে তিনি গণতন্ত্রের জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, তেমনি তিনি ড. কামাল হোসেনকেও অভিভাবক মেনেছেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন আর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এক রহস্যময় কারণে এক হতে পারছেন না। দুই প্রবীণ রাজনীতিবীদই পৃথক অবস্থান থেকে ঐক্যের কথা বলছেন।

যদিও বিএনপি মহাসচিব ছাড়া বিএনপির অন্য নেতাদের কাছে, এরা দুজনই মূল্যহীন। বিএনপির একজন নেতা স্পষ্ট করেই জানালেন, ভোটের বাজারে ঐক্যের কোনো দাম নেই। এরা বিএনপির ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করতে চায়। একই মত লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ারও।

তারেক জিয়া মনে করেন, বিদ্যমান ২০ দলকে রেখে তার সঙ্গে জাতীয় পার্টিকে যুক্ত করা গেলেই জাতীয় ঐক্য হবে। তারেক জিয়া দলের সিনিয়র নেতাদের আড়ালে রেখে এরশাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে। তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি.এম কাদেরের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি আরেক দফা ডিগবাজীও দিতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়েছিলেন সরকার হটাতে সকল জোটে রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য। এজন্য তিনি জামায়াতকে ত্যাগ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। প্রস্তুত ছিলেন বিএনপির নেতৃত্বও ত্যাগ করতে।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুলের সর্বদলীয় জোটের ফর্মুলা ছিল যৌথ নেতৃত্ব। এখানে একক কোন নেতা থাকবে না। নির্বাচনের পর জোটে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তাদের থেকে প্রধানমন্ত্রী হবে। অথবা, জোট আলোচনা করে একজন প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল নানান চেষ্টা করেও বি. চৌধুরী এবং ড. কামালকে এক করতে পারেন নি।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারেক জিয়াও প্রথমে বি. চৌধুরীর সঙ্গে ঐক্যে রাজী ছিলেন। কিন্তু অধ্যাপক বি. চৌধুরীর পক্ষ থেকে মাহী বি. চৌধুরী দেড়শ-দেড়শ আসনের ফর্মুলা দিলে তারেক ক্ষেপে যান। ঐ ফর্মূলায় মাহি বিএনপিকে ১৫০ এবং শরীকদের ১৫০ আসন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

একাধিক সূত্র নিশ্চত করেছে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত হয়তো দুই প্রস্তাবিত জোটের একটিতেও যাবে না, বরং জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির একটি সমঝোতায় যাবে। বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করেন, ২০ দল ভাঙ্গা যৌক্তিক হবে না। বরং জাতীয় পার্টি ২০ দলের বাইরে একমাত্র দল, যাদের জামায়াত নিয়ে কোন অরুচি নেই। বিএনপির একজন নেতা বলেন, ২০০১ সালেও আমরা জাতীয় পার্টিকে নিয়েছিলাম, ২০১৪তেও এরশাদের সঙ্গে আমাদের একটা সমঝোতা হয়েছিল।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে