আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:০২

কেক কাটা নিয়ে ফখরুল-রিজভী বাকযুদ্ধ!

অনলাইন ডেস্ক
কেক কাটা নিয়ে ফখরুল-রিজভী বাকযুদ্ধ!

কেক কাটা নিয়ে বিএনপিতে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে রীতিমত বাকযুদ্ধ হয়ে গেল। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়ে দিলেন, ‘বিএনপি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটবে না।’ কিন্তু তাঁর কথা মানলেন না, রিজভী। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়ে দিলেন, ‘কেউ যদি ম্যাডামকে ভালোবেসে কেক কাটে, তাকে বাধা দেবেন কেন?’ এ নিয়ে হৈ চৈ এবং বিতণ্ডার মধ্যেই শেষ হলো বিএনপির অনানুষ্ঠানিক বৈঠক। আজ মঙ্গবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের সিনিয়র নেতারা এভাবেই তর্কে জড়ান।

আগামীকাল ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। আর শোক দিবসকে ব্যাঙ্গ করতে বেগম জিয়া ১৯৯৬ সাল থেকে ঐ দিন তাঁর জন্মদিন হিসেবে পালন শুরু করেন। যদিও বেগম জিয়ার পাসপোর্ট, বিয়ের নিকাহ নামা এবং স্কুলের সার্টিফিকেটে কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন হিসেবে লেখা নেই। তারপরও ৭৫ এর খুনিদের সমর্থন জানাতেই বেগম জিয়া ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করে আসছিলেন। ঐ দিন বিশাল কেক কেটে তিনি বীভৎস অরুচিকর উৎসব পালন করতেন। ২০১৪ সাল থেকে জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় আস্তে আস্তে তাঁর জন্মদিন উৎসব পালন কমে আসে। গত দুবছর বেগম জিয়া নিজে কেক কেটে উৎসব করেননি। এবার ১৫ আগস্ট বেগম জিয়া জেলেই কাটাচ্ছেন। তাই তাঁর নিজের কেক কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ সকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিছু ‘দাপ্তরিক কাজ করার জন্যই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এসময় তাঁর কাছে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের স্থায়ী বাসিন্দা রুহুল কবির রিজভী জানতে চান, কাল কি হবে? মির্জা ফখরুল প্রথমে বুঝতে পারেননি। তিনি পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, কেন? কাল কি কোন কর্মসূচি আছে। রিজভী এ সময় একটু রেগেই বলেন, ‘কাল ম্যাডামের জন্মদিন, এটাও ভুলে গেলেন? আপনি কি একেবারে আওয়ামী লীগার হয়ে গেলেন?’

এবার বিরক্ত ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডাম জেলে, আমরা একটা সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন আপনার মাথায় জন্মদিন পালনের চিন্তা আসে কীভাবে?’ এবার আরও উত্তেজিত রিজভী বলেন, ‘এখনই তো সময়। এটাই তো প্রতিবাদের ভাষা। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমাদের কেক কেটে প্রতিবাদ করতে হবে। জেল গেটের সামনেও কেক কাটা উচিত।’

মির্জা ফখরুল একথা শুনে রেগে যান। বলেন, ‘ঠিক আছে, আপনি যান না, জেল গেটের সামনে গিয়ে কেক কাটেন। বড় বড় কথা বলেন, নিজে আগে অফিস থেকে বের হন।’ বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন জেলে। তিনি অসুস্থ। তাছাড়া সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করে, এসব কিছু আমরা করবো না।’

এ সময় রিজভী বলেন, ‘জানি তো কেন আপনি এসব করতে চান না, আওয়ামী লীগকে খুশি করার জন্য।’ তাঁর মতে, ‘নেতা কর্মীরা যদি এবার সারা দেশে কেক কাটে তাহলে ম্যাডাম খুশি হবে।’ কিন্তু দলের মহাসচিব প্রায় চিৎকার করে এসব ভাঁড়ামি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে