আপডেট : ২৪ মে, ২০১৮ ১৮:২৩

কেরানির জীবন পার করছেন যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা!

অনলাইন ডেস্ক
কেরানির জীবন পার করছেন যেসব মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা!

কাগজে কলমে তাঁরা মন্ত্রী। শুধু মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নন, আওয়ামী লীগের টিকেটে তারা এমপিও কিন্তু তাঁদের কর্মকাণ্ড ফাইলেই সীমাবদ্ধ। রাজনীতির মাঠে তো নয়ই, সরকারি কাজেও তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে। তাঁরা মন্ত্রী হয়েও যেন কেরানির জীবন যাপন করছেন। মন্ত্রী হিসেবে এরা মন্ত্রণালয়ে ফাইল দেখা ছাড়া আর কোনো নীতি নির্ধারণী কাজ করেন না। দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গেও এই মন্ত্রীদের যোগাযোগ কম।

কেরানি মন্ত্রীদের তালিকায় প্রথম নামটি আসে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের। ২০১৪’র জানুয়ারিতে তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ে আসেন কম। মন্ত্রণালয় চালান প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। ফাইলের সাক্ষর আর দু-একটা দাপ্তরিক ‘বৈঠকে সভাপতিত্ব করা ছাড়া তেমন কিছুই করেন না আওয়ামীলীগের এই প্রবীণ নেতা।

শামসুর রহমান শরীফও ২০১৪’র জানুয়ারিতে ভূমি মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে মন্ত্রণালয় নয় এলাকায় ছেলে এবং মেয়ের জামাইয়ের কারণে তিনি আলোচিত। মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ফাইল দেখা ছাড়া আর কোন কাজ নেই তাঁর। অর্পিত সম্পত্তি আইন, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার  মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, প্রচারণাও নেই। ভূমি মন্ত্রণালয়ে চলছে রুটিন কাজ।

স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী। তিনি নানা কারণে সৌভাগ্যবান। নির্বাচন না করেই তিনি ২০০৮ সালে প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৪ তে তিনি পান পূর্ণ মন্ত্রিত্ব। কিন্তু মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ছড়া পাঠ’ ছাড়া তাঁর যাবতীয় কাজ হলো দাপ্তরিক। রুটিন ধরে অফিস করেন। খুব একটা দেখা সাক্ষাত দেন না, মন্ত্রণালয় নিয়ে তাঁর কথাবার্তাও চোখে পড়ে না।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে এবছরের ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নিয়েছিলেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। দায়িত্ব নেওয়ার পর মৎস্য ও প্রাণী খাতের সাফল্যগুলো তিনি পাদপ্রদীপে আনতে পারেননি এখনো। এই মন্ত্রণালয়টি গত ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য সাফলে এনেছে। কিন্তু মন্ত্রী সেসব প্রাপ্তি তুলে ধরার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন না, রুটিন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শুধু মন্ত্রীরা নন, বেশ ক’জন প্রতিমন্ত্রীও কেরানি জীবন যাপন করছেন। এদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর অন্যতম। এই মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী না থাকায়, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক সহিংসতার ঘটনায় এই প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা গণমাধ্যমের নজরে আসেনি। সরকার অবশ্য এ কারণেই আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে মন্ত্রীর মর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান করেছে। এই প্রতিমন্ত্রী দাপ্তরিক কাজেই শুধু সময় কাটান।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১৫’র জুলাইয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বেগম ইসমাত আরা সাদেকই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চালাতেন। তিনি এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ফাইলে স্বাক্ষর ছাড়া তাঁর কোনো কাজ দৃশ্যমান নয়। এমনকি সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি ছিলেন নীরব, নির্লিপ্ত। আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁকে মন্ত্রীর চেয়ে ‘আমলা’ ভাবতেই পছন্দ করে।

তাছাড়াও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলো ছড়াতে পারেননি। লাল ফিতার ফাইলেই বন্দী তাদের জীবন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে