আপডেট : ২৪ মে, ২০১৮ ১৬:২৭

ছাত্রলীগ নেতা থেকে ‘বিএনপি নেতা’ হয়েছেন যারা!

অনলাইন ডেস্ক
ছাত্রলীগ নেতা থেকে ‘বিএনপি নেতা’ হয়েছেন যারা!

জাতির পিতার হাতে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সমালোচনার তীরে বিদ্ধ সংগঠনটি। সংগঠনটির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, ছাত্রলীগ আর আগের ছাত্রলীগ নেই। এর মধ্যে শিবির এবং ছাত্রদলের অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গেছে। শিবির-ছাত্রদল ঠেকাতে চলছে চিরুনি অভিযান, ঠিকুজি খোঁজা হচ্ছে প্রস্তাবিত নেতাদের। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ছাত্রলীগে আদর্শ বিবর্জিতদের অনুপ্রবেশ কি একটি নতুন প্রবণতা? নাকি ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার এ এক কৌশল?

গবেষণায় দেখা যায়, এটি বহু পুরোনো ধারা। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ২৭ টি কমিটি হয়েছে। ২৭ জন সভাপতির ৫ জনই এখন বিএনপির নেতা। ২৭ জন সাধারণ সম্পাদকের ৩ জন এখন বিএনপির রাজনীতির নীতি নির্ধারক। অথচ আওয়ামী লীগ আর বিএনপির আদর্শ দুই মেরুতে। জাতির পিতার রক্তের উপর দিয়েই বিএনপি প্রতিষ্ঠিত। এই দলটি জাতির পিতার হত্যার বিচার বন্ধ করেছিল, এখনো জাতির পিতাকে স্বীকার করে না। বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধিদের প্রধান সংগঠন।

গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। শাহ মোয়াজ্জেম যে কমিটির সভাপতি তার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি। সভাপতি হবার আগে শাহ মোয়াজ্জেম ১৯৫৭-৬০ সালে কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। শাহ মোয়াজ্জেম বাংলাদেশ ডিগবাজির রাজনীতির অন্যতম বিজ্ঞাপন। রাজনীতিতে অশ্লীলতাও কুরুচিপূর্ণ কথার প্রবর্তক তিনি। ৭৫  এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার রক্তের উপর দিয়ে তিনি মোশতাকের সঙ্গে হাত মেলান। ৮২’তে ডিগবাজি দিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এসময় ‘দুর্গন্ধময়’ কথার জন্য তিনি ছিলেন আলোচিত। সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা এখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।

প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমান ১৯৬৩ সাল থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং জেল হত্যায় আওয়ামী লীগের যারা ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে পরিচিত তাঁদের মধ্যে কে. এম. ওবায়দুর রহমান ছিলেন অন্যতম। ওবায়দুর রহমান পরবর্তীতে বিএনপির মহাসচিব হন। বিএনপিতেও এক সময় তাঁর জায়গা হয়নি।

১৯৬৭-৬৮ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী। কোরেশী যে সময় ছাত্রলীগের সভাপতি তখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক। ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীও বিএনপির নেতা হয়েছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনে সেনা সমর্থিত কিংস পার্টি করে আলোচিত হন। এখন একটি প্যাড সর্বস্ব দলের নেতা তিনি। ১৯৭০-৭২ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাজাহান সিরাজ। অবশ্য ৭২ এ তিনি জাসদে যোগ দেন। বর্তমানে অসুস্থ এই নেতা এখনো বিএনপি আছেন।

১৯৭৩-৭৪ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মনিরুল হক চৌধুরী। এই সময় সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন শফিউল আলম প্রধান। মনিরুল অনেক ঘাটের পানি খেয়ে এরশাদের জাপা থেকে বিএনপিতে এসে উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন।

আর শফিউল আলম প্রধান তো বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার এক মাইক্রোফোন। একটা নাম সর্বস্ব দল করে বিএনপির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছেন নিজেকে। ৮৮ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি হন হাবিবুর রহমান হাবিব। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের অন্যতম নেতা হিসেবে তিনি আলোচিত হন। ৯১ এর নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়েই তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এখন বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য।

এতো গেল শুধু সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের ক্ষেত্রে। এরকম বহু নেতা কর্মী আছেন যারা ছাত্রলীগ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে এসে বিচ্যুত হয়েছেন। অতীতেও এটা ছিল ভবিষ্যতেও এটা থাকবে।

আসল কথা হল আদর্শ। যেমনটা জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আদর্শ না থাকলে একজন রাজনীতিবিদের কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।’ তাই সব সময়ই আওয়ামী লীগে মোশতাক, মোয়াজ্জেমরা থাকবেই। আর এটা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো আদর্শিক মান উন্নত করা। তবে মজার ব্যাপার হলো, ছাত্রলীগ থেকে যারা বিএনপিতে গেছেন, তাদের কারও পরিণতিই সম্মানজনক হয়নি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে