আপডেট : ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:২২

‘বিজেপির আশাবাদ, আ’লীগই ক্ষমতায় আসবে’

অনলাইন ডেস্ক
‘বিজেপির আশাবাদ, আ’লীগই ক্ষমতায় আসবে’

কোনো বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাবে না বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ভারত সফর শেষে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে তিনি একথা জানান।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতাদের সঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কি কথা হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদিকে কোনো কথা বলতে শুনিনি। ইলেকশন নিয়ে কোনো কথা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘কথা হয়েছে আমাদের উভয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক, এই সম্পর্ককে পার্টি টু পার্টি সরকার টু সরকারের মধ্যে কিভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় এ নিয়ে। বাংলাদেশে নির্বাচন হবে, এতে ভোট দিবেন বাংলাদেশের জনগন। এখানে ভারত কী করবে, ভারত কী আমাদের ক্ষমতায় বসাবে? জনগণ না চাইলে কী আমরা জোর করে থাকব?’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে জনগণ। কোনো বিদেশি শক্তি নয়। বিদেশি শক্তি আমাদের বন্ধু। কিন্তু, আমাদের পলিটিক্যাল ফেইথ, ইলেকট্রোরাল ফেইথ দ্যাট উইল বি ডিসাইডেড বাই দ্য ওয়ার্ক, ভোটার্স অ্যান্ড পিউপল।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনেও ভোটে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে- এমন আশাবাদ বিজেপির নেতারা ডিনারে বসে করেছেন।’

কাদের বলেন, ‘২০০১ সালে আমরা হেরে গেছি, ভারত কী আমাদের জিতিয়েছে? তারা তো হস্তক্ষেপ করেনি। এবারো ইলেকশন হবে, ভারত হস্তক্ষেপ করবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিজেপি নেতারা কেউ কেউ হয়ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ডিনারে বসে। তারা বলেন, আশা করছি আপনারা আবার ক্ষমতায় আসবেন। এটা তো একটা কার্টেসি, বলতেই পারে। আমরা একটা দল গেছি, এটা আমাদের বলতেই পারে। এটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেননি।’

বিজেপির নেতারাও বাংলাদেশ সফরে আসবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিজেপির সাধারণ সম্পাদককে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সেখানে ব্যস্ততার পর আমরা আশা করছি, ভারতের জনতা পার্টির একটি প্রতিনিধিদল আমাদের এখানে আসবে।’

তিস্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তিস্তা, রোহিঙ্গা কোনো কিছুই বাদ দেইনি। কেন তিস্তা চুক্তি করতে হবে এটাও আমরা বলেছি। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এটা করতে হবে। তিস্তা আমাদের বহু মানুষের জন্য লাইফ, বিষয়টি আমরা বলেছি। পানির জন্য হাহাকার আছে, সেটিও বলেছি।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমরা বলেছি- আপনি ৬৮ বছর এবং চুক্তি সম্পাদনের ৪১ বছর পর ডায়নামিক ও ক্যারিসমেটিক নেতৃত্বে দিয়ে সীমান্ত চুক্তি করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি তিস্তার সমাধান করবেন। তাহলে জনমনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে। পিপল টু পিপল কানেকটিভিটি কন্ট্রাক্ট আরও শক্তিশালী হবে।’

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা দায়িত্বরত আছেন, আচরণবিধির মধ্যে তারা কাজ করবেন। আচরণবিধির বাইরে আমরা নারায়ণগঞ্জেও যাইনি। যতক্ষণ এই আচরণবিধি থাকবে, আমরা এটিকে মেনে চলব।’

সিটি নির্বাচনে কমিশন স্বাধীন। কর্তৃত্বপূর্ণভাবে কাজ করতে সরকার তাদের সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী চিকিৎসা বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ? বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও আছেন। চিকিৎসকরা বলুক তার অবনতি কতটা হয়েছে, কি হয়েছে? কিছুদিন আগে আমরা বাইরে যা দেখলাম, তাতে দৃশ্যত কোনো অবনতি হয়েছে বলে মনে হয়নি। হ্যাঁ, হতে পারে। ভেতরে যদি কোনো অবনতি হয় মেডিকেল বোর্ড বললে এখানে সরকার অবশ্যই মানবিক আচরণ করবে। রাজনীতি করি বলে একজন মানুষ বিনা চিকিৎসায় মরবে, এটা কখনোই চাই না। শেখ হাসিনা এটা চান না। কখনো আমরা এ ধরনের আচরণ করব না।’

তারেক রহমানের পাসপোর্ট নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই যে পাসপোর্ট নিয়ে যা করছে বিএনপি, সকালে এক কথা বিকেলে এক কথা। মনে হচ্ছে, বিএনপি এখন খাদের কিনারে এসে লাফালাফি করছে। তারা বলছে মিথ্যাচার। তারেক জিয়া রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন, এটা এতদিন স্বীকার করেনি বিএনপি। এখন ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে। এরা আমাদের বলছে- মিথ্যাচার করছে আসলে বিএনপির নামক দলটিতে কিছু কনসামেট লায়ার (পরিপূর্ণ মিথ্যাবাদী) আছেন। এরা আসলে হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক আবদুস সুবহান গোলাপ, পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে