আপডেট : ২২ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:১৯

‘মরিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেককে হাতে পেতে ছটফট করছেন’

অনলাইন ডেস্ক
‘মরিয়া প্রধানমন্ত্রী তারেককে হাতে পেতে ছটফট করছেন’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর লন্ডনে দেয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘তারেকেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চরম ক্রোধ ও হিংসার বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রীর হৃদয়ে যেন প্রতিহিংসার আগুণ অনির্বাণ।’

রোববার (২২ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, ‘জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করতে মরিয়া শেখ হাসিনা। এ পরিবারটিকে ধ্বংস করতে পারলে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার অভিলাষ পূর্ণ হয় তার।এই জিঘাংসা একটি প্রতিবন্ধী সরকারেরই লক্ষণ। কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার লিপ্সা পূরণ হবে না।’

তার মতে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো মিথ্যা মামলায় বন্দী করেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার ঝাল মেটেনি।’

'আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন, শনিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদন। তাতে বাংলাদেশে মানবধিকার চরমভাবে লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। গত এক বছরের গুম, খুন, বিচারবর্হিভূত হত্যা, গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করা, খেয়াল খুশি মতো আটক করে নির্যাতন করা, বেআইনিভাবে আটক করে রাখা, বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে’- বলেন রিজভী।

রিজভীর দাবি, এ সরকারের অনাচারের বিরুদ্ধে যে আওয়াজ বিশ্বব্যাপী উঠেছে, তা আড়াল করতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে টার্গেট করা হয়েছে। তাকে লক্ষ্য করে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে হিংসাত্মক আক্রমণ প্রকাশ হয়েছে।’

বর্তমান সরকার স্বৈরাচারের আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দুঃশাসনের খবর বিশ্ববাসী জানে। ওইসব দেশে (যুক্তরাজ্য) আইনের শাসন বিদ্যমান। তারেক রহমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ১/১১ সরকারের নির্দয় নির্যাতনের শিকার তারেক রহমান উচ্চ আদালতের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন এবং সেদেশের আইন মোতাবেক তিনি অবস্থান করছেন, চিকিৎসা নিচ্ছেন। শেখ হাসিনার মতো প্যারোল নিয়ে বিদেশে যাননি। এ কারণে প্রতিহিংসার জ্বালায় মরিয়া প্রধানমন্ত্রী তাকে (তারেক) হাতে পাওয়ার জন্য ছটফট করছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভারত নিয়ে শনিবারের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের কথা কী মানুষ ভুলে গেছে। কিভাবে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং এরশাদকে ধমক দিয়েছিল তা এরশাদ নিজেই গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন। মানুষ কিন্তু সেসব ভোলেনি। সুতরাং যতই  ছুটাছুটি করেন, ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন এদেশে আর হবে না। ধূর্তামি আর শঠতা দিয়ে একতরফা নির্বাচন জনগণ রুখে দেবে।’

নড়াইলের কালিয়ায় বিএনপির কর্মীসভা থেকে কেন্দ্রীয় নেতাসহ গ্রেপ্তারকৃত ৫৯ জন নেতাকর্মীর অবিলম্বে মুক্তিও দাবি করেন রিজভী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে