আপডেট : ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২০:১৬

লাশ ফেলার ষড়যন্ত্রে সায় ছিল তারেকের?

অনলাইন ডেস্ক
লাশ ফেলার ষড়যন্ত্রে সায় ছিল তারেকের?

কোটা সংস্কার আন্দোলনে বেশ কিছুদিন টালমাটাল ছিলো দেশ। শুরুতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলায় দৃশ্যপট পাল্টে যায় অতি দ্রুত। মুহুর্তের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কোটা সংস্কার আন্দোলন আর কোনো বিশেষ শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সর্বসাধারণের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়। উত্তাল হয়ে উঠে পুরো দেশ। ঠিক সেই মুহুর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা পদ্ধতি বিলুপ্তের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

কোটা আন্দোলনের শুরু থেকেই এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক ছিলো না বললেই চলে। তবে তলে তলে বিষয়টিতে রাজনীতির প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা যে হয়নি তা কিন্তু একেবারেই বলা ঠিক হবে না। অনেকে অবশ্য মনে করেন সরকার এবং বিরোধী দল, উভয়পক্ষ থেকেই কোটা সংস্কারের এই আন্দোলনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকার চেষ্টা করেছে এই আন্দোলন যাতে কোনো ভাবেই সরকার বিরোধী রূপ নিতে না পারে সেটি মোকাবেলা করতে এবং বিরোধীরা চেষ্টা করেছে আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে সরকারের পতন করা যায় সেটি নিয়ে।

অবশ্য আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের পর সরকার বিরোধী মনভাব ফুটে উঠতে শুরু করেছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি সিদ্ধান্ত জানাতে আরো সময় নিতেন তবে সরকারের উল্টো স্রোতের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু সঠিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী সেটি বুঝতে পেরেছিলেন বলে অল্পতেই সুরাহা হয়েছে সবকিছুর।

এদিকে অন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রকাশ্যে এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক বা প্রভাব ছিলো না বলেই মনে করা হয়। দলের নেতারা আন্দোলনকারীদের পক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি দিলেও তা ছিলো একেবারেই দায়সারা। তবে তলেতলে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পরিকল্পনা যে একেবারে বিএনপির ছিলো না তা মানতে নারাজ আওয়ামী লীগসহ দেশের অনেক সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনে বিএনপির জড়িত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে একটি ফোনকলকে ঘিরে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরে শিক্ষক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদকে।

ফোনকলটি প্রকাশ্যে আসার পরেই মুলত কোটা আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার যে অপচেষ্টা সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ফোনালাপটি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তারেক রহমান এবং বিএনপিকে দোষারপ করে যাচ্ছেন।

বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতা (বর্তমানে একটি বাম দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন) বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে শেষ মুহুর্তে গেম খেলতে চেয়েছিলো বিএনপি। তার সঙ্গে একটি প্রগতিশীল বাম ঘেষা একটি রাজনৈতিক দলও জড়িত ছিলো। কিভাবে এটিকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত করা যায় সে পরিকল্পনা করা হচ্ছিলো এবং সেজন্য প্রয়োজনে লাশ ফেলার চিন্তাও করা হচ্ছিলো। কবি সুফিয়া কামাল হলের ঘটনাটি এর অংশ বলেও মনে করেন এই রাজনীতিক।

তিনি আরো বলেন, শুধু বিএনপি বা তারেক রহমান নয়, দেশের আরো দু-একটি ছোট ছোট রাজনৈতিক দল আছে যারা আন্দোলনকে ভিন্ন রূপ দিতে অতি গোপনে প্রয়োজনে রক্ত ঝরানোর পরিকল্পনা করছিলো। এসময় বিগত দিনে ‘আন্দোলন চাঙ্গা করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু-একজনকে ফেলে দিতে হবে’ এরকম ফোনালাপের কথাও মানুষ জানে (মাহমুদুর রহমান মান্না এবং সাদেক হোসেন খোকা) বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার একটি ফোনালাপ প্রকাশ পেয়েছিলো। যেখানে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রয়োজনে ঢাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলার কথা বলেন মান্না। এজন্য অবশ্য তাকে দীর্ঘদিন জেলও খাটতে হয়েছে।

আর তাই কোটা সংস্কারের এই আন্দোলনেও বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির পক্ষ থেকে কোনো ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা ছিলো না এটা বলা একেবারেই ঠিক হবে না হয়তো!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে