আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৮ ১৯:১১

‘ছয় মেরেই জয় ছিনিয়ে আনবেন শেখ হাসিনা’

অনলাইন ডেস্ক
‘ছয় মেরেই জয় ছিনিয়ে আনবেন শেখ হাসিনা’

আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, শ্রীলংকা বাংলাদেশ খেলায় শেষ ছয় মেরে যেমন বাংলাদেশ জিতেছিলো, একাদশ নির্বাচনেও শেষ ছয় মেরে জয় ছিনিয়ে আনবেন শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচন সময় মত হবে। নির্বাচনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো দফা দিয়ে কাজ হবে না।

সোমবার (১৯ মার্চ) বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে ২০ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দলের প্রতিবাদ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিম বলেন, নির্বাচন ছাড় দিয়ে কেউ নিজের কবর রচনা করতে চাইবেনা। এ নিয়ে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনকে ভন্ডুল করতে ও দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। যত দিন বাড়বে চক্রান্ত গভীর হবে। জাফর ইকবালের ওপর জঙ্গি হামলা এই চক্রান্তের অংশ। হামলাকারী চক্রান্তের কথা শিকার করেছে। এর পিছনে একটি বড় অপশক্তি রয়েছে। এ সরকার জঙ্গি দমন করেছে। তারপরও মাঝে মধ্যে এ অপশক্তি মাথাচারা দিয়ে ওঠে। আগামী নির্বাচনকে বানচাল করে চায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো বাহিনী আমাদের শক্তি নয়। জনগণই আমাদের শক্তি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ অপশক্তির মোকাবেলা করা হবে। জনগণের শক্তি প্রদর্শনেই হবে এ জনসভা। ইতিহাস স্বাক্ষী দেয় অপশক্তি জনগণকে ভয় পায়। ৭০ এ জনগণের মেন্ডেন্ট ছিল বঙ্গবন্ধুর শক্তি। আগামীতে আর একাত্তরের খুনিদের ক্ষমতায় আসতো দেওয়া হবে না। এরা ক্ষমতায় আসলে দেশ হবে অন্ধকারের বাংলাদেশ।

একই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, অশুভ শক্তিকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই শক্তি রাজনীতিতে আশ্রয় পায়। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়েই এই অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেছে। এই অপশক্তি ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো।

হানিফ আরো বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ২০০৯ সালে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। জঙ্গি সন্ত্রাসীদের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। অশুভ শক্তি আর মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে না। দেশের মানুষ জঙ্গি সন্ত্রাস ও গুপ্তহত্যা দেখতে চায় না। এই সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের শুরু হয়েছিলো ৭১ সাল থেকে। তারা সে দিন ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের মা বোনের ইজ্জতের ওপর হামলা করেছিলো। বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বাস করে না।

"সরকার খালেদা জিয়ার জামিন পেতে বাধা দিচ্ছে" বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এ মুখপাত্র বলেন, আমরা বার বার বলছি এ মামলায় সরকার বা আওয়ামী লীগ এর কোন হাত নেই। খালেদার মামলা নিয়ে আপনারা সবসময় মিথ্যাচার করেন। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা লড়ুন।

রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না উল্লেখ করে হানিফ বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ মামলা থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার নামে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে চাইলে জনগণ উচিত জবাব দিবে।

ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় আরো বক্তৃতা করেন ওয়ার্কস পার্টির ঢাকা মহানগরের নেতা আবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ প্রমুখ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে