আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:৩০

শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘরে বসে করুন, রাস্তায় কেন: কাদের

অনলাইন ডেস্ক
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘরে বসে করুন, রাস্তায় কেন: কাদের

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘরে বা কার্যালয়ে বসে করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির প্রথম সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক এই পরামর্শ দেন।

কাদের বলেন, ‘আপনারা (বিএনপি)শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচিকে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কাউকে বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করে মানুষের দূর্ভোগ সৃষ্টি করছেন।’

‘আপনারা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন তাহলে ঘরে করুন, অফিসে করুন, রাস্তায় কেন? জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন কেন?’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে বিএনপির ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। দলের নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া তাদেরকে হঠকারী কর্মসূচি দিতে নিষেধ করেছেন। এ কারণে তারা নমনীয় কর্মসূচি দিচ্ছেন।

রায়ের প্রতিবাদে ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল, পরদিন প্রতিবাদ, ১২ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন, ১৩ ফেব্রুয়ারি অবস্থান, পরদিন অনশন, ১৭ ফেব্রুয়ারি গণস্বাক্ষর, পরদিন জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি, ১৯ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে সমাবেশ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেয় বিএনপি।

এর মধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাইরে বিভিন্ন মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়ার ঘটনায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। আর ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি কালোপতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশের বাধায় এই কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদেরকে রঙিন পানি ও কাঁদানে গ্যাস ছিটিয়ে তুলে দেয় পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুমতি না নেয়ায় তারা কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচবি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সব ধরনের কর্মসূচিতে অনুমতি লাগবে কেন।

বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নামে অশান্তি পূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করছেন। ৫ জানুয়ারির মত কার্যক্রম করে করা কি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন?’।

খালেদা জিয়ার সাজা সম্পর্কে কাদের বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ার। খালেদা জিয়ার জেলে থাকা শর্ট, মিড না লং টার্ম হবে তার সিদ্ধান্তও নেবে আদালত।’

‘খালেদা জিয়া এখন উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। উচ্চ আদালত যদি জামিন দেয় তাহলে তো আমাদের কিছু করার নাই।’

‘নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও আমাদের কিছু করার নাই। যদি আদালত অনুমতি দেয়। এটার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।’

সাজার ১৭ দিন পর রোববার জামিন শুনানি হলেও খালেদা জিয়া জামিন পাননি। বিচারিক আদালতের নথি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছে হাইকোর্ট বেঞ্চ। আর আাদলতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মাহবুবে আলম বলেছেন, ৯০ দশকে এরশাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর তিন সাড়ে তিন বছরে জামিন পেয়েছিলেন। তাহলে খালেদা জিয়া কেন এখনই ছাড়া পাবেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়া জামিন পেলে নিয়ম অনুযায়ী পাবেন। না পেলে আদালত দেখবেন। এখানেও সরকারের কোন প্রকার হস্তক্ষেপ নেই।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর।

আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য এবং সংসদ সদস্য ইমরান আহম্মেদ, একাব্বর হোসেন, নূর জাহান বেগম মুক্তা, প্রকৌশলী ফজলুল হক,  আবু সালেহ মো. সাঈদ প্রমুখ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে