আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:২২

এবার মুখোমুখি তারেক-ফখরুল!

অনলাইন ডেস্ক
এবার মুখোমুখি তারেক-ফখরুল!

জামিন দেওয়ার পরও যদি বেগম খালেদা মুক্ত না হন, তাহলে বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে। বিএনপির নেতৃবৃন্দকে লন্ডনে পলাতক দলের ভারাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এমন নির্দেশই দিয়েছেন। তবে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সব সদস্যই ধাপে ধাপে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। কিন্তু তারেক জিয়া এবং তাঁর অনুসারী তরুণ নেতারা চান একদফা আন্দোলন। এনিয়ে বিএনপিতে মতভেদ এখন তুঙ্গে। স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং তারেক জিয়া মুখোমুখি অবস্থানে।

সত্যায়িত কপি পাবার পর মঙ্গলবারই (২০ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে।

আপিল আবেদন শুনানির জন্য গৃহীত হলেই বেগম জিয়ার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আশা করছেন রোববার নাগাদ তার জামিনের আবেদনের শুনানি হবে এবং তাঁকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য মঙ্গলবারই টেলিফোনে, লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়াকে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

জানা গেছে, ব্যারিস্টার মওদুদ তারেক জিয়াকে আশ্বস্ত করেছেন যে রোববার বা সোমবার বেগম জিয়ার জামিন হবে।

সূত্রমতে, তারেক জিয়া আশঙ্কা করছেন এই মামলায় জামিন পেলেও তাঁর মাকে অন্য মামলায় আটক দেখানো হতে পারে। তারেক লন্ডন থেকে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারেক সবাইকেই বলেন, এই মামলায় জামিন হবার পরও যদি তাঁকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, তাহলে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে যেতে হবে। সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য তিনি নেতাদের নির্দেশ দেন।

অন্য সময়ে নেতারা তারেক জিয়ার সব কথা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিলেও, এবার তারা তারেক জিয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করেননি। বরং, তারা বলেছেন, একদফা আন্দোলন করার জন্য দল এখনো প্রস্তুত নয়। তাঁরা এটাও বলেছেন আগের মতো হরতাল, অবরোধ কর্মসূচি জনগণ পছন্দ করে না।

স্থায়ী কমিটির সব সদস্যই একমত পোষণ করেছেন যে, ধাপে ধাপে আন্দোলন করতে হবে। তারেক জিয়া দলের নেতাদের এই আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন বলেও একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

এই প্রেক্ষিতে দলের তরুণ নেতাদের সঙ্গেও তারেক জিয়া কথাবার্তা শুরু করেছেন। সিনিয়র নেতারা না চাইলে দলে তরুণরা, বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল পৃথক কর্মসূচি নেওয়ার চিন্তাভাবনা বরছেন বলেও জানা গেছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেককে জানিয়েছেন, জোর করে আন্দোলন করা যায় না। আন্দোলন পিটিয়ে কাঠাল পাকানোও নয়। মির্জা ফখরুল তারেককে বলেছেন, বাংলাদেশ পাল্টে গেছে। এখন আগের মতো করে আন্দোলন সম্ভব না। কিন্তু তারেক, বিএনপি মহাসচিবকে তিরস্কার করে বলেছেন, কেন আপনি কী করছেন ‘সবই জানি’।

বেগম জিয়ার মুক্তি যত বিলম্বিত হবে, ততোই বিএনপির ভাঙ্গন ত্বরান্বিত হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র-বাংলা ইনসাইডার

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে