আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১০:৩৩

এতিমের টাকা যেভাবে চলে যায় তারেকের হাতে

অনলাইন ডেস্ক
এতিমের টাকা যেভাবে চলে যায় তারেকের হাতে

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি তারেক রহমানের হাত পর্যন্ত টাকা কীভাবে পৌঁছায়, তার ধারাবাহিক বিবরণ রয়েছে আদালতের রায়ে। সোমবার রায়ের পর্যবেক্ষণের কপি বিকেলে পৌঁছায় তার আইনজীবীদের হাতে। তারেক রহমান ও আসামি মমিনুর রহমান সরকারি টাকা আত্মসাতের এর দায় এড়াতে পারেন না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক লিখেছেন, আসামি কাজী সালিমুল হক ওরফে কাজী কামালের আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়—৫টি চেকের সিগনেটরির নির্দেশ অনুযায়ী এফডিআরগুলো করা হয়। এসব এফডিআর নিয়ে আসামি তারেক রহমানের অফিসে পৌঁছে দেন। বস্তু প্রদর্শনী আই (জি), আই (এইচ), আই (জে), আই (এল) এবং আই (এন) পর্যালোচনায় পরিলক্ষিত হয়, ওই ৫টি চেকের সিগনেটরি ছিলেন আসামি তারেক রহমান ও মমিনুর রহমান।

সুতরাং কাজী সালিমুল হক ফৌজদারি কাযবিধির ৩৪২ ধারার বিধান অনুসারে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এই আসামির হাত হয়ে সরকারি এতিম তহবিলের টাকা তারেক রহমানের হাতে চলে যায়। ফলে সরকারি টাকা আত্মসাতের দায় আসামিরা এড়াতে পারেন না। যৌথ স্বাক্ষরে বর্ণিত ৫টি চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করায় তারেক রহমানের সঙ্গে আসামি মমিনুর রহমানও সম্ভবত দায়ী মর্মে এই আদালত মনে করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে অবস্থিত নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিত্যক্ত মহিলা ওয়ার্ডের দোতলায় রাখা হয়েছে তাকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে