আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০১৮ ২০:২৭

‘তারেক রহমান জঙ্গি নন’

অনলাইন ডেস্ক
‘তারেক রহমান জঙ্গি নন’

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় আসামি তারেক রহমানের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছে। এই মামলায় পলাতক আসামি তারেকের জন্য রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী আবুল কালাম আক্তার হোসেন দাবি করেন, তার মক্কেল এই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না।

সোমবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কারা অধিদপ্তরের ভবনে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ এজলাসে দুপুর পৌনে ২টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন এই আইনজীবী। বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের এই আদালতে এদিন নবম দিন যুক্তিতর্ক শুনানি করল আসামি পক্ষ।

মঙ্গলবারও শুনানি করবেন আবুল কালাম। শুনানিতে একই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র আদালতে পড়ে শুনিয়ে আবুল কালাম বলেন, তারেক রহমান নির্দোষ। “২১ অগাস্ট হামলার সঙ্গে জঙ্গিরা জড়িত। তারেক রহমান জঙ্গি নন। তিনি হামলাকারীদের সহযোগিতার কোনো আশ্বাস দেননি। এজাহারেও তার নাম নেই। কোনো সাক্ষী সুনির্দিষ্টভাবে তারেক রহমানের বিষয়ে কিছু বলেনওনি।”

যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছিল, তারেক রহমানের উপস্থিতিতে হাওয়া ভবনে বসে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ২০০৪ সালের ২১ আগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউর ওই সমাবেশে হামলা চালানো হয়েছিল বলে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি। গ্রেনেড হামলার পর গ্রেনেড হামলার পর তারেক রহমান আছেন।

ওই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। তখন এই হামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা চেষ্টা হয়েছিল বলে পরে উদ্ঘাটিত হয়। খালেদা জিয়ার সরকার যাওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তাতে খালেদা সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর অধিকতর তদন্তে আসামির তালিকায় যোগ হয় খালেদার ছেলে তারেক, তার সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩০ জন। জামিনে ও কারাগারে থাকা ৩১ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি হয়। তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ আসামি কারাগারে রয়েছেন। খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলার প্রথম দিককার তিন তদন্ত কর্মকর্তা সুপার রুহুল আমিন, মুন্সি আতিকুর রহমান ও আব্দুর রশীদ এবং সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

তারেক রহমান, সাবেক বিএনপি এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক। মোট ৫২ আসামির মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান এবং সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মো. মুজাহিদের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয় মামলা দুটিতে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে