আপডেট : ২২ নভেম্বর, ২০১৭ ২০:২১

শেখ হাসিনা সরকারের ‘চাণক্য’ কে?

অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনা সরকারের ‘চাণক্য’ কে?

প্রত্যেক সরকারেই একজন দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি থাকেন। যিনি সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকে পরিচালিত করেন। অনেক সময় সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর ওপর নির্ভারশীল হয়ে পড়েন, তাঁকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া সম্ভব হয় না। রাজনীতির ভাষায় দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিকে বলা হয় ‘চাণক্য’।

বাংলাদেশের রাজনীতিতেও বিভিন্ন সময় দ্বিতীয় ক্ষমতাবান দেখা গেছে। ৬৯ এর গণ আন্দোলন থেকে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়কালীন সময়ে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরপরই দ্বিতীয় স্থানচ্যুত হন তাজউদ্দিন আহমেদ। অনেকেই বলেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি। কারও কারও মতে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহমেদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করেন, খুনি মোশতাক ৭৫ এর পর দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর দ্বিতীয় ক্ষমতাবান মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো পরিবর্তন হয়েছে। জেনারেল মীর শওকত, কর্নেল অলি আহমেদ, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে জিয়ার সেকেন্ড ইন কমান্ডে পরিণত হয়েছিলেন।

এরশাদের শাসনামলে দ্বিতীয় ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন জিনাত মোশারফ। সরকারি অনেক সিদ্ধান্ত পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর হয়েছিল। মন্ত্রীরাও তার সঙ্গে দেখা করার জন্য লাইন দিতো।

এরশাদের পতনের পর ৯১ এর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি। এ সময় সাইফুর রহমানই হয়ে উঠেছিলেন বিএনপিতে দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি। বেগম জিয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসলে সাইফুর রহমানের পরামর্শেই হয়েছিল।

৯৬ তে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মোহাম্মদ নাসিম কার্যত দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। একাধিক মন্ত্রণালয় নিয়ে তিনিই প্রধানমন্ত্রীর পর উপপ্রধানমন্ত্রীর অঘোষিত মর্যাদা পেয়েছিলেন। শেখ হাসিনার অনেক সিদ্ধান্তও তিনি পাল্টে দিতেন।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দ্বিতীয় ক্ষমতাবান হয়ে উঠেন তারেক জিয়া। কার্যত, তারেকই সরকারের নেপথ্যের কলকাঠি নাড়াতে থাকেন। সব কিছুই হতো তারেকের ইশারায়।

ওয়ান ইলেভেনে কাগজে কলমে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও পেছনে কলকাঠি নাড়াতেন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পর শেখ হাসিনার পরেই অবস্থান নেন এইচ টি ইমাম। সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর একক ভূমিকার কথাও জানা যায়। কিন্তু ক্রমশ, এইচ টি ইমাম তাঁর দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়ে ফেলেন। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা থেকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে তিনি বর্তমানে প্রায় অবসর জীবনযাপন করছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের দ্বিতীয় কে? প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের পরামর্শ খুব একটা নেন না বলেই জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের বিষয়ের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধন্তে মন্ত্রীদের ভূমিকা খুবই নগণ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একজন আমলাই এখন দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই তিনি একটি সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চুক্তির ভিত্তিতে। কিন্তু সব সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেই অনেকে মনে করেন। সরকারের ‘বিরাজনীতিকরণ’ প্রক্রিয়ার অন্যতম রূপকার তিনি। এমনকি তিনি রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণেও নাক গলান বলেও নানা কথাবার্তা চালু আছে। বিদ্যুৎ থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চল,রপ্তানি থেকে দুর্যোগ- সব ব্যাপারেই হঠাৎ পণ্ডিত হয়ে ওঠা এই আমলাকে নিয়ে নানারকম অস্বস্তি ডানা মেলছে।

তবে অনেকের মতে, যত গর্জে তত বর্ষে না। আসলে শেখ হাসিনা সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি তিনি নন, অন্যকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি। যাদের ওপর শেখ হাসিনা এখন অনেক বেশি নির্ভরশীল।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে