আপডেট : ৭ জুন, ২০১৬ ১২:৫৮

সাম্প্রদায়িক চরিত্রে আরও কাছাকাছি বিএনপি-আ.লীগ; জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ!

অনলাইন ডেস্ক
সাম্প্রদায়িক চরিত্রে আরও কাছাকাছি বিএনপি-আ.লীগ; জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে  বাংলাদেশ!

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ বিভিন্নভাবে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াত এখন আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে যে ব্যবধান ছিল, তা-ও এখন কমে এসেছে। ‘জঙ্গিবাদের বিপদ’ নিয়ে এক আলোচনাচক্রে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

জঙ্গিবাদকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ও ধর্মের শত্রু উল্লেখ করে তা থেকে পরিত্রাণের জন্য সমাজের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান বক্তারা।

সোমবার (০৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকীকরণ ও জঙ্গিবাদের বিপদ: সমাধানের পথ’ শীর্ষক এ আলোচনাচক্র। এর আয়োজক সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চ।

ইসলামী ব্যাংকসহ জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খালেদ বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় নেই, তবে তাদের টাকাপয়সা রয়ে গেছে। তিনি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা ক্ষমতায় যাওয়ার সংগ্রাম। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা বিশ্বাস করে হত্যা করে ক্ষমতায় যাওয়া যায়।’

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়েছে সাহসিকতার সঙ্গে, কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি চালু রয়েছে, এটা বৈপরীত্য। তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি বহুদিনের। কিন্তু সরকার তা কেন করছে না?

গত দেড় বছরে ৪৫টি ঘটনায় ৪৭ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, সারা দেশের সব ধর্মের মানুষকে একধরনের প্রতিকারহীন সমাজের মধ্যে কাটাতে হচ্ছে। এসব কাজ আইএসের অনুসারীরাই যে করছে, তাতে সন্দেহ নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে সরকার যত আন্তরিক, জঙ্গিবাদের বিচারে সেই আন্তরিকতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। জঙ্গিবাদ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের শত্রু, ধর্মের শত্রু। কারণ, কোনো ধর্মই এ ধরনের নিষ্ঠুর হত্যা সমর্থন করতে পারে না।

সভাপতির বক্তৃতায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে যে ব্যবধান ছিল, তা ছোট হচ্ছে। এটা শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।

লিখিত সূচনা বক্তব্যে অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীল একটি আবহ সৃষ্টি করার সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম নিয়ে অনেকটাই এগোতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের ভেতরে থাকা এদের এজেন্টরা মদদ না দিলে এদের কর্মকাণ্ড এতটা প্রসারিত হতো না। রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনে যাঁরা এদের মদদ জোগাচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে