আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০১৬ ১০:১১

আরো সময় চাইলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
আরো সময় চাইলেন খালেদা জিয়া

বিএনপির কমিটি গঠনে খালেদা জিয়া আরও কিছুদিন সময় নেবেন। দলটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এর কারণ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগের চেয়ে অনেকটা সতর্কতার সঙ্গে দলের নীতিনির্ধারণী পর্ষদসহ কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে চাইছেন।

এ সম্পর্কে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, এবারের কমিটিতে যাতে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই ভাবনায় বিএনপির চেয়ারপারসন কমিটি ঘোষণায় কিছুটা সময় নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের অনেক রক্ত, শত অত্যাচার ও নিপীড়নের মুখে এবার বিএনপির সম্মেলন হয়েছে। লাখো নেতা-কর্মীর এমন শান্তিপূর্ণ সম্মেলন আমি কখনো দেখিনি। এই সম্মেলন বিএনপিকে একটি বার্তা দিয়ে গেছে। সম্ভবত সেই বার্তার আলোকে চেয়ারপারসন একটি সাংগঠনিক কমিটি গোছাচ্ছেন। এ কারণে হয়তো কিছুটা সময় লাগছে।’
বিএনপির নেতারা মনে করেন, ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় সম্মেলনে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করে যে ইতিবাচক রাজনীতি ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন, তা নিজের দল এবং রাজনীতির বাইরের মানুষদের মধ্যেও ভালো সাড়া পেয়েছে। দলীয় প্রধান ক্ষমতায় গেলে সুনীতি, সুশাসন ও সুসরকারের সমন্বয় ঘটানোর স্বপ্ন দেখিয়েছেন।
ওই নেতারা বলছেন, এখন তাঁরা হয়তো উদ্গ্রীব হয়ে আছেন, বক্তব্যের এই ধারায় বিএনপির ভেতরেও একটি গুণগত পরিবর্তন আসবে। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বপূর্ণ পদ-পদবিগুলোতে কাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাও হয়তো রাজনীতির ভেতরে-বাইরের অনেকের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন হয়। এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো দলের মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। সম্মেলন-পরবর্তী বিএনপির প্রথম সাংগঠনিক কাজ হচ্ছে মহাসচিবসহ নতুন কমিটি ঘোষণা।
দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের কেউ কেউ এবার কমিটি গঠনে দলের চেয়ারপারসনকে সাবধানী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা খালেদা জিয়াকে বলেছেন, তাঁর বক্তব্য মানুষ ভালোভাবে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এখন যদি চেয়ারপারসনের বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় দলের কমিটি গঠন এবং নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস না হয়, তা হবে অসংগতিপূর্ণ। কমিটি গঠনে সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ছায়া না থাকলে মানুষ তা কথার কথা হিসেবে ধরে নেবে। আর তা হলে রাজনীতির ভেতরের-বাইরের মানুষ, এমনকি বিএনপির নেতা-কর্মীরাও হতাশ হতে পারেন। এরপর তাদের আবার আশবাদী করে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনের পর বুদ্ধিজীবীদের কয়েকজন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করে এসব পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ লিখিতভাবে এবং লোক মারফতেও পরামর্শ দেন। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ অন্যতম। ওই সূত্র জানায়, শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিতর্কমুক্ত, গ্রহণযোগ্য এবং আন্দোলনমুখী নেতাদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমাজউদ্দীন আহমদ গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপির সম্মেলনে খালেদা জিয়া সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টির রাজনীতির কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে কোনো শ্লেষ, প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ ছিল না। রাজনীতিকদের কাছে এটাই আমরা চাই। তিনি “ভিশন ২০৩০” পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এগুলো বাস্তবায়িত করার জন্য যোগ্য লোক দরকার। এটা নিয়ে হয়তো তিনি চিন্তাভাবনা করছেন।’

উপরে