আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০১৬ ২১:১৪
ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের সমন্বয়ে প্লাটফর্ম

বিএনপিতে যুব মহিলা দল গঠনে তোড়জোড়

এম হাসান
বিএনপিতে যুব মহিলা দল গঠনে তোড়জোড়

নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে বিএনপিতে জাতীয়তাবাদী যুব মহিলা দল গঠনের জন্য তোড়জোড় চলছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নারীর ক্ষমতায়ন বিবেচনায় নিয়ে এ ব্যাপারে তৃণমূলের পক্ষে চাপ বাড়ছে।

দলটির সিনিয়র নেতারাও এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য দুইটি কমিটি গঠন করে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে রাখা হয়েছে সাবেক নারী এমপিদের। ফলে যুব মহিলা দল গঠনের ব্যাপারে আভ্যন্তরীণ কার্যক্রম থেমে নেই বিএনপিতে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিএনপির মতো একটি বিরাট দলে নারীদের মূল্যায়ণ করতে হলে নয়া প্লাটফর্ম জরুরি। শুধু এক মহিলা দল দিয়েই চলবেনা। নারী নেতৃত্বের বিকাশের জন্য আরো একটি আলাদা প্লাটফর্ম হওয়া অত্যাবশ্যক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাস্তবতার আলোকে কয়েকটি কারণে যুব মহিলা দল গঠনের সুপারিশে একমত পোষণ করেছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও। (এক) মোট ভোটের অর্ধেক নারী ভোটার। তাহলে নেতৃত্বের বেলায় কেনো মহিলা মাত্র ১১ ভাগ? কমিটি অথবা নতুন প্লাটফর্ম সৃষ্টি করে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো পক্ষে তারা। (দুই) শহীদ জিয়া যুবশক্তিকে অগ্রাধিকার দিতেন, ১৯ দফার মধ্যে সমাজ গঠনে যুবক-যুবতীদের সম্পৃক্ত করার কথা উল্লেখ আছে।

যুবদল গঠন করে তাতে যুবকদের সম্পৃক্ত করা হলে যুবতিদের প্লাটফর্ম কেনো নয়? (তিন) বিএনপির বিরুদ্ধে মৌলবাদের অপপ্রচার রয়েছে। তাই মহিলা দলের পাশাপাশি যুব মহিলা দল গঠন করে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ালে এ অপপ্রচার ঘুচানো যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আরো পরামর্শ হলো- নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে। মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগ। জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীরও রয়েছে দুইটি সংগঠন- মহিলা জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। কিন্তু বিএনপির রয়েছে শুধু মহিলা দল।

এদিকে গত ১৯ মার্চ বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের অনুষ্ঠানের পর সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এবার বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে বেশ কিছু পদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে সব বিভাগে একজন করে সাংগঠনিক এবং সহ সাংগঠনিক থাকবেন দুই জন করে। এরমধ্যে যত বেশি সম্ভব নারীদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে (গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভূক্ত হয়নি)।

তিনি আরো জানান, কেননা দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। আমরা তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিকে সক্রিভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

তার কাছে যুব মহিলা দলের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিডিটাইসমকে বলেন, বিএনপির মতো একটি বিরাট রাজনৈতিক দলে আরেকটি মহিলা সংগঠন হওয়া সময়ের দাবি। কেননা বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে। এমতাবস্থায় বিএনপিতে যুব মহিলা দল বা অন্য নামে নারী সংগঠন করা হবে উত্তম কাজ। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের মূল্যায়ণ করতে হলে আলাদা প্লাটফর্ম দরকার। যেখানে মেধাবী এবং তারুণ্যের সমাহার ঘটবে। অন্য দলেও তো একাধিক নারী সংগঠন আছে। এ বিষয়টি বেগম খালেদা জিয়াকে বিবেচনায় নেয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করে তিনি।

এ ছাড়া বিএনপি ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে অনেকগুলো প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তার শেষটি হচ্ছে- বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অংশ তরুণ। বিশ্বে তাদের ‘গ্লোবাল ইয়ুথ’ বলা হয়। বিএনপি রাজনীতিতে জ্ঞান ও মেধার চর্চার মধ্য দিয়ে এই তরুণ সম্প্রদায়কে দলের মূলধারায় অধিকতর সম্পৃক্ত করতে চায়। এই কাউন্সিল আধুনিক বিশ্বের উপযোগী তারুণ্য ও মেধা নির্ভর একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে বিএনপি গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করছে। সেইসাথে গণতান্ত্রিক সহনশীলতা, মেধা ও মননের বিকাশ এবং মুক্ত চিন্তা চর্চার মধ্য দিয়ে বিএনপিকে ভবিষ্যতের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, যুব মহিলা দল গঠন করা হলে সাবেক ছাত্র নেত্রীদের যথাযথ মূল্যায়ণ এবং মৌলবাদের অপপ্রচার ঘুচানোর পথ সুগম হবে। এখানে উচ্চ শিক্ষিত ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীদের পদায়ণ করা হবে। যাদের বয়স মহিলা দলে সম্পৃক্ত হবার মতো নয়। খালেদা জিয়ার হাতে ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত দুটি কমিটি জমা দেয়া হয়েছে।

তবে কমিটির ধরন বা আকার কি হবে? তা নির্ভর করছে শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছার ওপর। সূত্র জানায়, দেশে বহু ছাত্র নেত্রী রয়েছেন যারা বিভিন্ন সময় ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা সরকারি ও বেসকরারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ আবাসিক হলের সভাপতি বা সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে যুগ কেটেছে ছাত্রদল করে। শিক্ষাজীবন শেষে অনেকে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিএনপিতে শিক্ষিত মহিলাদের অংশগ্রহণ আশঙ্কা হারে কমছে। নতুন নারী নেতৃত্ব তৈরির পথও প্রায় বন্ধ। দেশ-বিদেশে বাড়ছে সমালোচনাও।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যুব মহিলা দল গঠনের ধারণা আসে দলের সিনিয়র নেতা ও পরামর্শকদের কাছ থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সময়ের ছাত্রনেত্রী ও সাবেক এমপি বলেন, বিশ্বব্যাপী যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ছে, সেখানে বিএনপির মতো এত বড় রাজনৈতিক দলে নারীর অংশগ্রহণ পিছিয়ে থাকবে কেনো? শুধু তাই নয়, ক্ষমতাসীন দল ছাড়াও অন্যান্য দলেও নারীদের জন্য একাধিক সংগঠন রয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের বহু নারী নেত্রী আছেন যারা মহিলা দলে সম্পৃক্ত নন। তাদেরকে বসিয়ে রেখে কী লাভ? দলকে আরো বেশি সক্রিয় এবং নারীবান্ধব করতে হলে বিকল্প কিছু থাকা ভালো। সবার সমন্বয়ে বিএনপিকে আরো এগিয়ে নিতে হলে যুব মহিলা দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সূত্র জানায়, ইতিবাচক যুক্তির মধ্যে দলের একটি গ্রুপ এই কমিটি গঠনের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের যুক্তি হলো যুব মহিলা দল গঠন করা হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মহিলা দলে। সম্ভাব্য কমিটিতে উচ্চ শিক্ষিত সাবেক ছাত্রনেত্রীরা থাকছেন, এ আলোচনা হতে না হতেই মহিলা দলের অনেকেই যুব মহিলা দলে স্থান পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অনেকেই এই সংগঠন গঠনে বিরোধীতাও করছে। তবে বর্তমান মহিলা দলের অস্তিত্ব নিয়ে টান পড়েছে। কিন্তু যুব মহিলা দল গঠনের পক্ষের পাল্লাই ভারী বলে সূত্রের দাবি।

এদিকে মহিলা দলের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছেন না সাবেক ছাত্র নেত্রীরা। এসব নেত্রীদের মতে- তাদের বয়স এখনো মহিলা দলের রাজনীতি করার মতো হয়নি, মহিলা দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থার অভাব রয়েছে বেশিরভাগ ছাত্রনেত্রীর। তারা অন্য রাজনৈতিক দলের মতো মহিলাদের পৃথক সংগঠন যুব মহিলা দল গঠন করে সেই ব্যানারে রাজপথে সক্রিয় থাকতে চায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে