আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৬ ০৯:১১

বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব হিসেবে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করতে পারেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করার জন্য সময় নিতে চান। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান কমিটিতে কাদের রাখবেন তার তালিকা আগেই করা হয়েছিল। এখন আবার সব কিছু বিবেচনা করে পরিবর্তন পরিবর্ধন করা হবে। দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যারা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে আছেন ছয় বছর কিন্তু কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি, দক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদেরকে সাইড লাইনে নেয়া হবে। খালেদা জিয়া এবার যোগ্য, সত্, সাহসী, মাঠের নেতা ও নতুন মুখ কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেশি করে আনতে চান। খালেদা জিয়া তার সমাপনী বক্তব্যে বলেছেন, তিনি ভেবে-চিন্তে কমিটি গঠন করবেন, খোঁজ-খবর নিয়ে করতে হবে। স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই মোটামুটি চূড়ান্ত। ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলেই ‘ভারমুক্ত’ মহাসচিব পাচ্ছে বিএনপি- এমন প্রত্যাশা নিয়েই যোগ দিয়েছিলেন সারাদেশের কাউন্সিলর ও দলটির নেতা-কর্মীরা। তবে কাউন্সিলে ঘোষণা না হওয়ায় কৌতূহল বেড়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী অন্যতম বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, কাউন্সিলে ঘোষণা না হলেও দুই-একদিনের মধ্যেই স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব পদের ঘোষণা দিতে পারেন চেয়ারপার্সন। এই দুটি মনোনয়নের পরই ভাইস চেয়ারম্যান পদের নাম ঘোষণা করবেন খালেদা জিয়া। তারপর পর্যায়ক্রমে কমিটি আসবে।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বলেছেন, চেয়ারপার্সন অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে কাউন্সিলরা খালেদা জিয়াকে কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা দিয়েছেন।

‘এক নেতার এক পদ বাস্তবায়ন’ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, গঠনতন্ত্রে এ বিধানাবলি চালু হওয়ার পর থেকে এ বিষয়টি কার্যকর হবে। যারা একাধিক পদে আছেন তারা একটি রেখে বাকি পদগুলো থেকে পদত্যাগ করবেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচনের পর ম্যাডাম ইচ্ছা করলে যে কাউকে যে কোনো পদে নিয়োগ দিতে পারেন। তার মতে, অনেকের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আপাতত ফখরুলকে চেয়ারপার্সন বাদ দেবেন না। তাকেই মহাসচিব করা হবে; তবে সেটা যেকোনো সময় হতে পারে।

এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়াতে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। গঠনতন্ত্র সংশোধনীর আরো বেশ কিছু প্রস্তাব অনুমোদন করেন কাউন্সিলররা। ‘এক ব্যক্তির এক পদ’-এর ধারা-সম্বলিত বিধানের কারণে স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না। একইভাবে যারা জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকবেন তারা অন্য  কোনো পদে থাকতে পারবেন না।

দলের ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির প্রতিষ্ঠার তারিখ সংযোগ করা হবে।

সূত্র-ইত্তেফাক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে