আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৬ ১৩:০৩

ঝুলে গেল বিএনপির মহাসচিব ঘোষণা !

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝুলে গেল বিএনপির মহাসচিব ঘোষণা !

বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের মধ্য দিয়েই দলটি পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব পাচ্ছে― এমন জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো না। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হলো। মহাসচিব পদ নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও এক দিন পর এ পদে কারো নাম ঘোষণা হয়নি।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিলেও মহাসচিব ঘোষণা করা হয়নি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা বলেন, ‘আমাদের পঞ্চম কাউন্সিলেও মহাসচিব ঘোষণা করা হয়নি। সেই কাউন্সিলের ৩-৪ দিন পর মহাসচিব পদে প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। তাতে অবশ্য খোন্দকার দেলোয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।’

বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে এ মুহূর্তে কেউ সরাসরি কথা বলতেও নারাজ। দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ নেতারাও এই নিয়ে আপাতত কথা বলতে নারাজ। ফলে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব পদে কে ‘নিয়োগ’ পাচ্ছেন―এর জন্য চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে দলের স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটি গঠনের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে খালেদা জিয়ার নাম উত্থাপন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে শনিবার সন্ধ্যায় দলের সাংগঠনিক প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কাউন্সিলররা মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনা করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলরদের মধ্যে মহাসচিব পদ নিয়ে গুঞ্জন ছিল। মির্জা ফখরুলকে নিয়ে অনেকেই একমত থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এ বিষয়ে ঐকমত্যে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়ই থাকতে হচ্ছে। আবার কেউ দাবি করছেন, মির্জা ফখরুলের শেষ ভরসা দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া দ্বিতীয় অধিবেশনে মহাসচিব পদ নিয়ে কোনো প্রস্তাব কার্যতালিকায় ছিল না। তবে কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির এক নেতা মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম প্রস্তাব করে একটি চিরকুট পাঠান। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।

দ্বিতীয় পর্বে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর আন্দোলন বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জেলা ও উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক, এক নম্বর ভাইস চেয়ারম্যানকে কাউন্সিলর করার দাবি জানান। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে ‘ভারমুক্ত’ করার দাবি করেন তিনি।

তবে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাসে মহাসচিব পদে কোনোদিন প্রার্থী হয়নি, এবারও নেই। আজকেও এখানে কেউ মহাসচিব প্রার্থী হয়নি।’ সময় নিয়ে মহাসচিব পদসহ নির্বাহী কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রস্তাব করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুস রহমান বলেন, ‘কাউন্সিলে মহাসচিব ঘোষণা করা হবে এই নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল। কিন্তু বিএনপির কাউন্সিলে কখনো এ পদ ঘোষণা করা হয়নি। সময় নিয়েই করা হয়। দলের চেয়ারপারসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটি গঠন করার জন্য। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। উনার ইচ্ছেমতো যেকোনো সময় ঘোষণা দিতে পারেন। আশা করি, এক মাসের মধ্যে ঘোষণা আসতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন পুরো কমিটি গঠনের জন্য চেয়ারপারসনকে দায়িত্ব দিয়ে প্রস্তাব করেছেন, সেটা পাস হয়েছে। তিনি এ বিষয়টি দেখবেন। নির্বাহী কমিটির পাশাপাশি মহাসচিব পদে ঘোষণা করবেন। এর বাইরে কিছুই বলতে পারব না। তবে খুব শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে