আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ০৮:৫৩

বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আজ

দীর্ঘ ছয় বছর পর বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আজ (শনিবার) সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স  ইনস্টিটিউশনে এ কাউন্সিলের উদ্ভোধন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর দল পুনর্গঠন করে বিএনপি। ২০০৯ সালের জুন মাসে একসঙ্গে ৭২টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ওই বছর ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল। পরের বছর জানুয়ারিতে গঠন করা হয় ৩৮৬ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি।

তিন বছর মেয়াদি কমিটির সময় আড়াই বছর আগেই শেষ হয়েছে। এর আগে দুই দফা কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিল হয়। দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আর এর আট বছর পর ১৯৮৯ সালের ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দলটির তৃতীয় কাউন্সিল। ১৯৯৩ সালের ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চতুর্থ কাউন্সিল করে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হয় পঞ্চম কাউন্সিল।
   
বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দলের চেয়ারম্যান পদে খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান তিন বছরের জন্য বিনাপ্রতিদ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

দলের স্থায়ী কমিটি, মহাসচিবসহ নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে কাউন্সিলের মাধ্যমে। এছাড়া দলীয় গণতন্ত্র কিছু সংশোধনী আনা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলাকালে এ সিদ্ধান্ত হয়ে বলে জানান তিনি। বৈঠক শূরুর কিছুক্ষনের মধ্যে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দলীয় গণতন্ত্রে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে। তা কাউন্সিলে অনুমোদন হলে দলীয় গঠণতন্ত্রে সংশোধনীর আকারে গৃহীত হবে।

কাউন্সিল অধিবেশনের ভেন্যু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ ব্যবহারেরও অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।

দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী নেতাকর্মী সমবেত হয়ে কাউন্সিল সফলভাবে সম্পন্ন হবে সকলেই উপলব্ধি করতে পারছি। সারাদেশ থেকে যেভাবে নেতাকর্মীরা বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভীড় জমাচ্ছেন তাতে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পরিবেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।’

রিজভী বলেন, ‘ভঙ্গুর গণতন্ত্রের এই দেশে মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে দেশের সংগ্রামী মানুষ যে আজ ঐক্যবদ্ধ এবং বিএনপি চেয়ারপারসর বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আস্থাশীল তা ইতোমধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশরক্ষার আন্দোলনে সাড়া দিয়ে দেশের সর্বস্তরের জনতা আগামী দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল হবে, মানুষ ফিরে পাবে গণতন্ত্র, তাদের বাকস্বাধীনতা।’

তিনি বলেন,  ‘সারাদেশ থেকে কাউন্সিলবৃন্দ ও ডেলিগেটরা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ডেলিগেট ও কাউন্সিলর কার্ড সংগ্রহ করেছেন। কাউন্সিলকে শতভাগ সফল ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে গঠিত বিভিন্ন উপ-কমিটিগুলো এবং সংশ্লিষ্ট সবাই রাতদিন পরিশ্রম করছেন। এজন্য দলের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘ কাউন্সিলরদের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারের মত হবে। এছাড়া প্রায় ৮০০ ডেরিগেটকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য,  জেলা , উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা কাউন্সিল হতে পারে বলেও জানান রিজভী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে