আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৪:০১

চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্ততি, সফল কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্ততি, সফল কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি

চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্ততি। মঞ্চ তৈরি, কাউন্সিল কার্ড বিতরণসহ আনুসঙ্গিক কাজগুলো করা হচ্ছে। এই নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের এতটুকু ফুসরত নেই। শুক্রবারের মধ্যে সব কাজ শেষ করা হবে। শনিবার সকাল ১০টা শুরু কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন। আর এ কাউন্সিল ঘিরে উজ্জীবিত নেতার্কমী। দলে শীর্ষ নেতাও একটি সফল কাউন্সিল করার প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছেন।
 
বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিলের দিন তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। কোন কাজ নেই, নেই কোন পদ-পদবীর আকাঙ্খাও। এরপরও প্রতিদিনই  সকাল সন্ধ্যা ভিড় করছেন দলীয় কার্যালয়ে। খোশ-গল্পে মেতে উঠছেন। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, প্রতিদিনই বাইরের জেলা থেকে ছুটে আসছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী আর সমর্থক শ্রেণি। কাউন্সিলকে ঘিরে যেন একটা উৎসব আমেজ তৈরী করছেন তারা। কোন নেতা কোথায় পদায়ন হচ্ছে, কে পাচ্ছেন কাঙ্খিত পদ-পদবী তাই নিয়েই চুলচেরা বিশ্লেষণ আর আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন এসকল নেতাকর্মীরা। সব কিছু ছাপিয়ে সকল আনন্দ যেন কাউন্সিলকে ঘিরে।
 
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাউন্সিলরদের আইডি কার্ড বিতরণ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদকেও আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে।   দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ কমিটি এতে কাজ করছেন। সঙ্গে দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
 
বিএনপির কাউন্সিলের জন্য নির্ধারিত ভেন্যু রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশন চত্বরে বৃহস্পতিবার দিন ভর প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি কাজ করতে দেখায় যায়। এছাড়া ওই দিন দুপুরে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিএনপির উপ-কমিটির নেতা ভেন্যু পরিদর্শন করেন।
 
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করবো, কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের সম্পূর্ন সহযোগিতা পাব। ইতোমধ্যে কাউন্সিলর জন্য উপ-কমিটিগুলো তাদের সকল প্রস্ততি নিয়ে ফেলেছেন।’
 
তিনি বলেন, ‘আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ কাউন্সিল উপলক্ষ্যে সারাদেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোরন সৃষ্টি হয়েছে।পূনরায় জেগে উঠার জন্য এ কাউন্সিল যে একটা অন্যন্য ভূমিকার রাখবে এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত।’
 
দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এজেড এম জাহিদ হোসেন বিডিটাইমসকে বলেন, ‘দীর্ষ দিন পর দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। কাউন্সিল সফল করতে সবার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।’
তিনি জানান, আমরা দলের পক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতাদের কাউন্সিল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। গতরাতে(বুধবার) জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি কাউন্সিলের সফলতা কামনা করেছেন। এছাড়া বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জেএসডির আসম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে বিএনপির কাউন্সিলের সফলতা কামনা করেন।    
 
আপ্যায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক দলের অর্থ বিষয়ক আবদুস সালাম বলেন, আমরা একটি সফল কাউন্সিল করতে চাই। দলের নেতাকর্মীরা সবার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেস্টা করে যাচ্ছেন।
 
আপ্যায়নের জন্য ইতিমধ্যে ১৯টি টিমকে তাদের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সালাম। এ ছাড়া অন্যান্য উপকমিটিগুলোও তাদের দায়িত্বপালনে সচেষ্ট রয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ নয় বছর পর ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে