আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ০৮:৫৭
বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন কাল

কোনো পদেই নির্বাচন হচ্ছে না

বিডিটাইমস ডেস্ক
কোনো পদেই নির্বাচন হচ্ছে না

কাল শনিবার বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন। এর সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। দলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, নানা ঘাত-প্রতিঘাতে মনমরা নেতা-কর্মীরা সম্মেলন ঘিরে জেগে উঠেছেন। এবারও কোনো পদেই নির্বাচন হবে না বলে ধারণা দিয়েছেন নেতারা। তবে তাঁরা নিশ্চিত নন, ছয় বছর পর অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে দলে নতুন কী চমক আসছে।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন ঘিরে বিএনপির এত দিন সম্মেলনের প্রস্তুতি চলেছে। পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশবিশেষ ব্যবহারের অনুমতি পেতে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। গতকাল উদ্যানের এক অংশ ব্যবহারে পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি বিএনপির নেতাদের স্বস্তি দেয়।
দলীয় সূত্র জানায়, কাউন্সিলর, ডেলিগেট, আমন্ত্রিত অতিথিসহ এবারের সম্মেলনে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকের সমাগম হবে। ৩ হাজার ১০০ জন কাউন্সিলর, ৮ থেকে ৯ হাজার ডেলিগেটের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রায় ৮০০ আমন্ত্রিত অতিথি থাকবেন।
‘মুক্ত করবই গণতন্ত্র’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ১৯ মার্চ জাতীয় সম্মেলন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবারের সম্মেলনের স্লোগান ঠিক করা হয়েছে ‘দুর্নীতি-দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’। দলের ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, ওলামা দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, জাসাসও আলাদা স্লোগানে পোস্টার প্রকাশ করেছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, দুই দফায় দীর্ঘ আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর একে একে তিন সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি বাজে ফলাফল করেছে। পাশাপাশি আন্দোলনের সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার, জেল নেতা-কর্মীদের জর্জরিত করেছে। এখন তাঁরা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেগে ওঠার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় সম্মেলন নতুন কোনো আশা জাগাতে ব্যর্থ হলে নেতা-কর্মীরা দলবিমুখ হয়ে উঠতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা অনেকে অনেক পদে আছি। কিন্তু দায়িত্ব পালন করি না, ফাঁকি দিচ্ছি। নিশ্চয়ই তা চেয়ারপারসনের পর্যবেক্ষণে আছে। এ ব্যাপারে হয়তো তাঁর নিজেরও অন্তঃক্ষরণ আছে। আমার মনে হয়, কাউন্সিলে তার প্রতিফলন হবে।’
অবশ্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিলের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে বিএনপি আবার জেগে উঠবে।
সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল। সেবার খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন পুনর্নির্বাচিত এবং তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গতবারও সম্মেলনের দিন মহাসচিবসহ অন্য পদগুলোতে নেতাদের নির্বাচিত করা হয়নি। সম্মেলনের কয়েক দিন পর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবারও সম্মেলনে মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
বিএনপির নেতারা বলছেন, আড়ম্বর করে ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে এবারও বড় কোনো চমক থাকার সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যেই খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি আছে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ দলের মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদে নির্বাচন। দলটির নেতারা বলেন, সম্মেলনে কোনো পদেই নির্বাচন হচ্ছে না। এর মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বরত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপির উচ্চ ও মধ্যম সারির একাধিক নেতা জানান, মহাসচিব পদে আলোচিত একজন নেতার জন্য ইতিমধ্যে নানা মাধ্যমে প্রতিবেশী ও বহির্বিশ্বে দলের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কারও কারও অনুরোধ এসেছে, যা গত কয়েক দিন দলের নেতারা বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করছেন।
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ নিয়ে দৃশ্যত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। বিএনপির সূত্র জানায়, তিন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ, মো. শাহজাহান ও রুহুল কবির রিজভী এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন—এই চারজন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে আলোচিত হচ্ছেন। এখন দলের প্রভাবশালী একটি অংশ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটি বিলুপ্ত করতে চায়। তাদের যুক্তি, এ পদের উপযুক্ত নেতা দলে নেই। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটি অনেক ক্ষেত্রে মহাসচিবের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দলের অপর একটি অংশ অতিরিক্ত মহাসচিব পদ সৃষ্টির পক্ষে। শেষ পর্যন্ত কোনটি টিকছে, তা নিশ্চিত হতে পারেননি নেতারা। তবে ওই নেতারা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ স্থায়ী কমিটিতে গেলে মো. শাহজাহান, রুহুল কবির রিজভী ও আসাদুজ্জামান রিপন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিব পদে কয়েকজন নতুন মুখ আসবে।
এ ছাড়া নির্বাহী কমিটির আকার বড় করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি করারও প্রস্তাব আছে। দলটির নেতারা বলছেন, এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে অপেক্ষাকৃত তরুণেরা এসব জায়গায় আসতে পারেন। দলের চেয়ারপারসন ‘এক নেতা এক পদ’-এর যে কথা বলে আসছেন তা বাস্তবায়িত হলে বেশিসংখ্যক নেতাকে কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
বিএনপির সূত্র জানায়, তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরও কয়েকজন নেতা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁকে কো-চেয়ারম্যান করার। এ নিয়ে গত সোমবার দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন-বিষয়ক উপকমিটির বৈঠকে উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্ক হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন-বিষয়ক উপকমিটির একজন নেতা গতকাল বলেন, ‘তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এ অধ্যায়টি এবারের জন্য শেষ। এরপরও তাঁকে কো-চেয়ারম্যান করার তৎপরতাকে আমরা সন্দেহ না করে পারছি না।’
বিএনপির সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে দলের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তত পাঁচ-ছয়জন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন। তাঁদের মধ্যে দলের দুই ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অন্যতম।
এবারের সম্মেলনের চমক কী বা দেশবাসীকে কী বার্তা দেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে রাজনীতি বনাম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। এমন একটি প্রেক্ষাপটে বিএনপির কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। মানুষ অন্ধকার থেকে আলোর পথ খুঁজছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে এ সম্মেলন নিশ্চয়ই দেশবাসীকে আলো দেখাবে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে