আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪৯

‘ভার’ মুক্ত হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ভার’ মুক্ত হচ্ছেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির কাউন্সিলে ‘চমক’ বলে বাকি আছে দলের মহাসচিব পদ। এই নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও কৌতূহলের শেষ নেই। তবে সকল কিছুর অবসান ঘটিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হতে যাচ্ছেন।দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে হাইকমান্ডের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিএনপির মহাসচিব পদ উত্থাপন করা হবে। কাউন্সিলদের মতামত নিয়েই মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুল ইসলামকে পাশ করানো হবে। যেহেতু দলীয় প্রধানের মৌন সমর্থণ থাকবে মির্জা ফখরুলের দিকে। সেখানে কাউন্সিলরা এর বাইরে যাবেন না। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যের নামও নির্ধারণ হতে পারে। পর্যায়ক্রমে দলের নির্বাহী কমিটি ও সম্পাদকদের নাম প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান বিডিটাইমসকে বলেন, ‘দলের মহাসচিব গণতান্ত্রিকভাবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই করা হবে। কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত করা হবে। চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে গেলে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) কাউন্সিলরা ক্ষমতা দিবেন তিনি মহাসচিব ও নির্বাহী কমিটি গঠন করতে পারবেন।’ মহাসচিব পদে কে আসছেন এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) দায়িত্ব পালন করছেন উনার বাইরে তো আর কেউকে দেখি না। তিনি এখনও এককভাবেই আছেন। এখন অপেক্ষা করতে হবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত।’ বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমকে বলেন, ‘মির্জা ফখরুলই বিএনপির মহাসচিব হতে যাচ্ছেন।’ 

২০১০ সালের ১৬ মার্চ বিএনপির বর্ষীয়ান মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর সুদূর প্রসারী ও দীর্ঘকালীন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ বর্তমান সরকারের বিরোধী দলের ওপর নানা ধরণের চাপ, নির্যাতন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে যেভাবে নেতাকর্মীদের চাঙা রেখে দলীয় কর্মকাণ্ড চালানোর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার অভাবে সেভাবে দল পরিচালনা করতে পারছেন না মির্জা ফখরুল। তবে তার ইমেজ ভালো। এই কারণে দলের নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে আশাবাদী। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর সাতবার জেল খেটেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৮৪ মামলার খড়গ। ৩৫টি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও গ্রহণ করা হয়েছে। দফায় দফায় কারাগারে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি জটিল রোগেও আক্রান্ত বিএনপির এই নেতা। এরপরও ‘ভারপ্রাপ্ত’ মহাসচিবের দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন। দলের সহ তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবীব বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রায় ৮৮টি মামলার আসামী, জেল খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো দূর্নীতির অভিযোগ নেই। ম্যাডমের কথার অবাধ্য হবেন না, সব কিছু মিলে উনার প্রতি দলের কর্মীদের একটি সহানুভূতি আছে। এছাড়া সুশীল সমাজও উনাকে পছন্দ করেন।’ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ নয় বছর পর ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল করতে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে দলটি। উল্লেখ্য, কাউন্সিলকে সামনে রেখে ইতোমেধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিন বছরের জন্য পূন:রায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

উপরে