আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৬ ২১:৩২

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন মুখ?

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন মুখ?

বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন মুখ। এছাড়া দলীয় গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। গতিশীল ও যোগপোযোগি করতে দুই-একটা সংশোধনী আসতে পারে বলে জানা গেছে। দলীয় গঠনতন্ত্র বিষয়ক উপ-কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপিতে এক নেতার এক পদ, প্রাথমিক সদস্য পাওয়ার ৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত কোনো উচ্চ পদে বসতে পারবে না, দলের প্রতি দায়বদ্ধতা, উপদেষ্টাদের বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। সহ-স্থাস্থ্য সম্পাদক, পরিবার কল্যাণ সম্পাদকসহ এমন দুই একটি পদ সৃষ্টির সুপারিশ করা হতে পাবে।

এ বিষয়ে জানেত চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনালের(অব.) মাহবুবুর রহমান বিডিটাইসমসকে বলেন, ‘খুব বড় কমিটি হবে না। কিছু নতুন মুখ আসবে, তরুণরা আসবে। যারা মারা গেছেন তাদের শুণ্যস্থান পূরণ করা হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের কোনো পরির্বতন আসবে না। দলকে গতিশীল করার জন্য কিছু কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তা যুগোপোযোগি।’ বর্তমানের ১৯ সদস্যের বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে তিনটি পদ শূন্য আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের কারণে বর্তমানে তিনটি পদ শূন্য আছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম ও সারোয়ারী রহমান দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ও দলীয় কর্মকাণ্ডে নিস্ক্রিয় থাকলেও তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে না। জানা গেছে, দলের কো-চেয়ারম্যান করার কোনো প্রস্তাবনা নেই। দলীয় চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে সেই পদে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালন করার কথা বলা হয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের সংখ্যা বাড়ানোর গুঞ্জন থাকলেও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত কোনো পরিবর্তন না আনার কথা জানিয়েছেন গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ কমিটির এক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, ‘দলীয় গঠনতন্ত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভবনা নেই। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আকারও খুব বড় হবে না।’ দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটি এসব বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে। এরপর তা কাউন্সিলে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ আকারে দলীয় চেয়ারপারসনকে দেওয়া হবে।

১৪ মার্চ সোমবার এ উপ-কমিটির বৈঠক হওয়া কথা ছিল, কিন্তু অনিবার্য কারণে তা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটির আহ্বায়ক। তিনি অসুস্থ হয়ে গত ৯ মার্চ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এদিকে স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেন এমন কয়েকজনে নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে- বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর(অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ। মহাসচিব পদে অনেকের নাম শোনা গেলেও মির্জা ফখরুল ইসলমা আলমগীরই ‘ভার’ মুক্ত হচ্ছেন।

এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। এ পদের জন্য অনেকেই জোর লবিং করে যাচ্ছেন। তবে এ পদে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মোহাম্মদ শাহজাহান, সালাহ উদ্দিন আহমেদের মধ্যে যে কাউকে এ দেখা যেতে পারে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পদে লবিং করছেন-বর্তমানের যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেন নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছিলেন তাবিথ আওয়াল। নির্বাচনের মাধ্যমেই মূলত বিএনপির সামনে আসেন তিনি। দক্ষিণ সিটিতে মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস নামও শোনা যাচ্ছে। তিনিও নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে নজরে আসেন। তবে দলের প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর ৫ বছর পর বড় কোনো পদে আসতে পারবেন এমনটা করা হলে তাবিথ আওয়ালকে অপেক্ষা করতে হবে। এসব কিছুর সমাধানের জন্য আগামী ১৯ মার্চ কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দীর্ঘ নয় বছর পর এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল করতে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে দলটি। এর আগে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

উপরে