আপডেট : ৪ মার্চ, ২০১৬ ২০:৪৫

কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে, উজ্জীবিত বিএনপি নেতাকমীরা

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবদেক
কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে, উজ্জীবিত বিএনপি নেতাকমীরা
বিএনপির আসন্ন জাতীয় ষষ্ঠ কাউন্সিলের আর মাত্র ১৪ বাকি। এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে দলটি। দলীয় কাউন্সিল ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই। দীর্ঘদিন পর দলীয় কাউন্সিল তাই নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। দলের নেতাকর্মীরা এমনটাই দাবি করেছেন। 
এরই মধ্যে এবারের কাউন্সিলে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানানোর কাজ শুরু করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানকে আহ্বায়ক করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আসন্ন কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন যে বক্তব্য দিবেন তা-ও নির্ধারণ করেছে দলটি। এবারের কাউন্সিলে বক্তব্যের শিরোনাম হচ্ছে- ‘বেটার ফর বাংলাদেশ’।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ পঞ্চম কাউন্সিল হয়েছিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ওই সম্মেলনে মহাসচিবের দায়িত্ব পান মরহুম খন্দকার দেলোওয়ার হোসেন। ২০১১ সালে তার মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। এরপর থেকেই তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের আশা, দলের প্রতি মির্জা ফখরুলের ত্যাগ বিবেচনায় আসন্ন কাউন্সিলে তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হবে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিষ্টিটিউশনে ভেন্যু নির্ধারিত হওয়ার পর থেকে ১৯ মার্চের জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শুক্রবার সকালে ভেন্যু পরিদর্শন বিএনপি নেতারা।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ  স ম হান্নান শাহ বলেন,  ‘সরকার বা অন্য কেউ বিএনপির কাউন্সিল পন্ড করতে কোনো ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে তা নির্মুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কাউন্সিলের প্রতিবন্ধকতা প্রথম অনুভূত হয়েছিল নিরাপত্তা নিয়ে। একটি অনির্বাচিত সরকার যখন নির্যাতন ও নিবর্তনকারী আচরণ শুরু করে তখন কাউন্সিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলতে পারব না।’
কাউন্সিল সফলে একটি প্রস্তুতি কমিটির পাশাপাশি ১২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে চেয়ারপারসন করে ওই প্রস্তুতি কমিটি (জাতীয় কাউন্সিল ও সম্মেলন-২০১৬ প্রস্তুতি কমিটি) গঠন করা হয়। সকল উপ-কমিটির আহ্বায়করা ওই কমিটির সদস্য। এসব কমিটিগুলোও পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। বেগম জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ড্রাফটিং উপ-কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। গত শনিবার হয় আপ্যায়ন উপকমিটির বৈঠক। এ ছাড়া প্রকাশনা উপকমিটি সহ অন্যান্য কমিটিগুলোও বৈঠক করছে। 
 
সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটি এবং গঠনতন্ত্র সংশোধন উপকমিটি। আন্তর্জজাতিক উপকমিটির বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- ড. আব্দুল মঈন খান, রিয়াজ রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আসাদুজ্জামান রিপন, গোলাম আকবর খন্দকার, শামা ওবায়েদ ও হায়দার আহমেদ খান।
আর গঠনতন্ত্র সংশোধন উপকমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈঠক সূত্র জানায়, আসন্ন কাউন্সিলে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিশেষ করে সার্কভুক্ত সব দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশগুলোকেও (সকল মহাদেশ) আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। এছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্রেও সংশোধন আনবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ড্রাফটিং উপকমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হাসান খান বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমকে জানিয়েছেন, আসন্ন কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্ভাব্য বক্তব্যের শিরোনাম হিসেবে ‘বেটার ফর বাংলাদেশ’ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বক্তব্যে আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে তার সম্ভাব্য রূপরেখা থাকবে। সেইসাথে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে প্রশাসন চালানোসহ বিভিন্ন বিষয় এই বক্তব্যে উঠে আসবে।
এদিকে প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ কাউন্সিলরদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে। সারাদেশে দলটির প্রায় তিন হাজার কাউন্সিলর রয়েছেন। এছাড়া পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত এবং বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রামগুলোতে নিহত নেতাকর্মীদের জন্য কাউন্সিলে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের মৃত্যু তালিকা প্রস্তুতির কাজ শতকরা ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, কাউন্সিলের প্রচারের জন্যও ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রচার ও ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির প্রস্তাব সম্পন্ন প্রায়। শুধু স্থানের অনুমতির অপেক্ষা। প্রচারের জন্য অন্য মাধ্যমের সঙ্গে ইন্টারনেট ও ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে।
এদিকে কাউন্সিল উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে বর্ণিল সাজে সাজাতে চায় বিএনপি। মহানগরীতে প্রচার-প্রচারণার জন্য সড়ক-মহাসড়কের বিভাজক, লাইটপোস্ট ও সড়কদ্বীপে ফেস্টুন টাঙানোর পরিকল্পনা করছে দলটি। সাজ-সজ্জার জন্য ইতোমধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের কাছে অনুমতিও চেয়েছে দলটি। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিএনপিকে এখনো কিছু জানানো হয়নি বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান বিডিটাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দলের নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই উজ্জীবিত। সবার প্রত্যাশা এবারের কাউন্সিলে দলে গতিশীল নেতৃত্ব তৈরি হবে।’
ছাত্রদল সহ সভাপতি নাজমুল হাসান বিডিটাইমসকে বলেন, ‘সরকারের সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে। এবার কাউন্সিলেই তার প্রমান হবে। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকছেন এতে দলও সংগঠনের নেতাকর্মীরা উল্লোসিত।’ 
উল্লেখ্য ৪ মার্চ শুক্রবার সকালে বিএনপির চেয়ারপারসন এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তারাই ফের নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
উপরে