আপডেট : ২ মার্চ, ২০১৬ ১২:২০

‘এরশাদ সব সময় একটু দালালি করেন’-খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘এরশাদ সব সময় একটু দালালি করেন’-খালেদা জিয়া

ওয়ান ইলিভেনের কুশীলবদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে এক অনুষ্ঠানে এই দাবি জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, মাহফুজ আনাম তো বলেছে কারা করেছে। এখন তো দেশে আছে কয়েক জন। তারা কেন বহাল তবিয়তে আছে, তারা কেন বাইরে আছে, ভেতরে নাই কেন। তখন কিন্তু ডিজিএফআইয়ের  ডিজি ছিল রুমী। মাসুদ তো অস্ট্রেলিয়ায়, মেয়াদ কতবার বাড়ানো হয়েছে। কার মাধ্যমে পেয়েছেন এই সরকারের মাধ্যমে। হাসান মাসুদ তো দেশেই আছে কেন তাকে ধরা হয় না। তাদের যদি এতই সিনসিয়ারিটি থাকে, তাহলে তাদের ধরে দেখি দিবেন তাদের এর(১/১১) প্রতিটি সচেতনতা আছে।     

বর্তমান সরকার অবৈধ, তারা যত কাজ করতে সবই অবৈধ এগুলোর জবাব আসবে   এমনটা উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ১/১১ এর  কথা উঠিয়েছে। উনিই তো শপথ অনুষ্ঠানে গেলেন, শপথ নিয়েছেন।  তিনি বলেছেন আন্দোলনের ফসল। তার মানে তিনি এটা করিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রকে শেষ করে দিয়ে অবৈধ একটি সরকারের হাত দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চান। সেটাই হয়েছে। যদি অন্যায় না করি তাহলে কিসের এতো ভয়। তিনি তাদের কাকুতিমিনতি করে ১১মাসে বেরিয়েছেন। আমি বলেছি কিছুই করবো না। তাদের সঙ্গে রীতিমত ফাইট করেছি।

আমি তো তাদের কথা মত চলবো না, জনগণের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবো না। সেই জন্য আমি দেশে ছেড়ে কোথাও যাইনি। আমি এক বছর ৮দিন জেলে ছিলাম। আর তিনি  বিদেশে চলে গেলেন হাতে মেহেদী লাগিয়ে।’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না, এরা ১/১১ এর লোকজনদের চেয়ে খারাপ করছে তারা এমটা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এর জন্য তাদের একদিন জবাব দিতে হবে। উনি বলেছেন মাইনাস টু ফর্মলা। আবার এরশাদ এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে। উনি একটু সব সময় দালালি করেন।

তিনি বলেন,  আওয়ামী লীগের দেশে প্রেম নেই, সেই জন্য তারা লুটপাট, জমি দখল,  টেন্ডারবাজী এইগুলো নিয়ে আছে। ব্যাংকগুলোর কি অবস্থা বানিয়ে তারা।  বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয় কমিশন খাওয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) সংবিধানও মানে না। তারাই সাংবিধান সংশোধন করেছে, কিন্তু সংবিধানে যা আছে সেটা মানে না। প্রধান বিচারপতি বলে দিয়েছেন অবসারে যাওয়ার পরে রায় লেখার কোনো সুযোগ থাকে না।

বিচারপতি খায়রুল হকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, উনি  অবসরে যাওয়ার আগে যে রায়টা লিখেছেন যেটাই কার্যকর হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন হতে হবে। আমাদের দাবি সেখানে আরো দুইটা টার্ম তত্ত্বাবদায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন হতে হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচন কোনো নির্বাচন হয়নি। কাজেই আরেকটা নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে।

আসন্ন কাউন্সিলের দলের বয়স্কদের উপদেষ্টামন্ডলিতে রেখে তরুনদেও নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে বলেও উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।

এর আগে চট্রগ্রাম জেলা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে বিগত আন্দোলনে চট্রগ্রাম জেলায় নিহত ও আহত সাত পরিবারকে আর্থিক অনুদান তুলে দেন তিনি।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ড. মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির মাহমুদ খসরু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে