আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:১৬

খোলস বদল করে মাঠে নামছে জামায়াত

বিডিটাইমস ডেস্ক
খোলস বদল করে মাঠে নামছে জামায়াত

পাল্টে যাচ্ছে জামায়াত। এবার নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। নতুন নাম হচ্ছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। তবে নাম পাল্টালেও সাংগঠনিক কাঠামো থাকছে আগেই মতোই।

জামায়াতের সূত্র জানায়, নতুন দল গঠনের পাশাপাশি দলটি পরিচালনার জন্য শীর্ষস্থানীয় সম্ভাব্য দুজন নেতার নামও মোটামুটি ঠিক করা হয়েছে। নতুন দল বিডিপির সভাপতি হতে পারেন জামায়াতের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তাঁর বয়স ষাটের কাছাকাছি। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও দলের সাবেক সাংসদ হামিদুর রহমান আযাদকে ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য পদের নেতাদের দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদকে মূল দলে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শফিকুর রহমান বিডিপির সভাপতি হলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হতে পারেন দলের ঢাকা মহানগর কমিটির আমির রফিকুল ইসলাম খান। তিনি শফিকুর রহমানের প্রায় সমবয়সী। এরপরও তাঁকে কেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল পদে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে দলে বিভিন্ন ধরনের কথা আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের মধ্যম সারির একজন নেতা বলেন, যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে আদালত যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে, সে আশঙ্কা থেকে নতুন দল করছেন নীতিনির্ধারকেরা। কিন্তু মূল দল জামায়াত বিলুপ্ত করা হচ্ছে না। ফলে নতুন দলে জামায়াতেরই কর্তৃত্ব ও প্রভাব থাকবে। সে চিন্তা থেকে রফিকুল ইসলাম খানকে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হচ্ছে বলে মনে করছেন ওই নেতা।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য বলেন, নিষিদ্ধ হলে জামায়াতকে বিলুপ্ত করার চিন্তা না রেখে নতুন নামে দল গঠন নিয়ে বিতর্ক আছে। নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত হবে সুবিধাবাদী। অর্থাৎ, আবার জামায়াত পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা জাগিয়ে রাখা হচ্ছে।

জানা গেছে, দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া জামায়াতের ষাটোর্ধ্ব নেতারা নতুন দলের নেতৃত্বে থাকবেন না। তাঁরা মূল দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতেই থেকে যাবেন। তবে তাঁরা প্রকাশ্য রাজনীতি করবেন না। মূলত এসব নেতা গোপনে জামায়াতের দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং নেপথ্যে থেকে নতুন দলকে পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির অন্যতম পর্যবেক্ষক ও সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান বলেন, ‘আমার জানামতে, জামায়াত সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছে। তবে তারা মনে করে, কোনো আইনগত ও গণতান্ত্রিক দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না। সরকার এ কাজটি করবে না।’

জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা তাঁদের নেই। তবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের বিচারের আইনের যতটুকু সংশোধন প্রয়োজন সেটা তাঁরা করবেন। এরপর আদালতে বিচারে যা হওয়ার হবে।

নতুন নামে যদি জামায়াত রাজনীতি করতে চায় তাহলে তাদের অবশ্যই আইন মেনে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধনের সময় যদি দেখা যায়, এই দলের সঙ্গে একাত্তরের মানবতাবিরোধীরা যুক্ত, তাহলে তারা নিবন্ধন পাবে না। আনিসুল হক জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান, তাদের এ দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে