আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৩৫

বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে টানাহেঁচড়া

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে টানাহেঁচড়া

কে হচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাকি অন্য কেউ। দলটির কাউন্সিলের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই এমন একটি জিজ্ঞাসা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০১১ সালে মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য রয়েছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে এত দিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে, মহাসচিব পদটিতে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা এককভাবে দলের চেয়ারপারসনের হাতে থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এই পদে দলের প্রবীণ নেতা তরিকুল ইসলাম ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও এ পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করেন অনেকে। বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার পর থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কয়েকজন নেতার বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। মূলত ওই অংশটি এখনো তার বিরোধিতায় সক্রিয় রয়েছেন। সম্প্রতি দলের সংকটের মুহূর্তের নেতা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গেও মির্জা ফখরুলের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। দলের মধ্যে অনেকে তরিকুল ইসলামকে মহাসচিব হিসেবে পেতে আগ্রহী। তারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এ বিষয়ে চেষ্টা-তদবিরও করছেন। তারা মনে করছেন, তরিকুল ইসলাম জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতা। এই ক্রান্তিকালে তিনি দায়িত্ব নিলে দল উপকৃত হবে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তরিকুল ইসলাম শারীরিক কারণে কিছুটা পিছটান দিয়ে আছেন। এই বয়সে কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা নিয়ে তার মধ্যে অস্বস্তি আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে সুস্থ নই। তবু আমি দল করি। একেবারেই যদি কাউকে পাওয়া না যায়, সে ক্ষেত্রে দায়িত্ব দিলে তো দলের স্বার্থে বিকল্প চিন্তা করতে হবে।’

তবে লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবং এম ওসমান ফারুকের সঙ্গে এক বৈঠকে দলের মহাসচিব পদে নিয়োগের ব্যাপারে মির্জা ফখরুলের পাল্লাই ভারী ছিল বলে সাদেক হোসেন খোকা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, সাদেক হোসেন খোকা, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদসহ দলের সংস্কারপন্থী নেতারা চাইছেন মির্জা ফখরুল মহাসচিব হোন। কারণ, তিনি মহাসচিব হলে সংস্কারপন্থী নেতারা বিএনপিতে আবার ঠাঁই পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিকে স্থায়ী কমিটির অন্য এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির মহাসচিব হতে হলে আর অন্য সব যোগ্যতার সঙ্গে এই যোগ্যতাটাও দেখা হয় যে, তার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে কি না। আপনারা জানেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান হচ্ছেন মির্জা ফখরুলের আপন বড় বোনের স্বামী। মাহবুবুর রহমান ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান। সুতরাং মির্জা ফখরুলের সামরিক যোগাযোগ অন্য যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ভালো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের পদ মির্জা ফখরুলের পাওয়া উচিত। এ পদে কাজ কীভাবে করতে হয়, তা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তার শিক্ষানবিশ কাল শেষ হয়েছে। সুতরাং যারা বলেন মহাসচিব হিসেবে তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তারা ঠিক বলেন না।

স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মহাসচিবের পদের জন্য আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেতে নারাজ। তবে কাউকে যদি মহাসচিব পদের জন্য পাওয়া না যায়, তাহলে আমি পিছিয়ে যাওয়ার লোক নই। সংকট-দুর্দিনে দলের হাল ধরার নজির আমার আছে।

মহাসচিব পদের এই টানাপোড়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তরিকুল ইসলাম ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ও আমার কাছে বলেছেন, তিনি মহাসচিব হতে আগ্রহী নন।’ তার নিজের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মহাসচিব হতে আমার কোনো সমস্যা নেই। হয়তো তাই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। মহাসচিব পদটি আমার কাছে ইমম্যাটারিয়্যাল (গুরুত্বপূর্ণ না)। আমি এটার জন্য রাজনীতি করি না।

 

বিডিটােইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে