আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:০১

নির্বাচন কমিশন সংঘর্ষের পক্ষপাতিত্ব করছে-রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন কমিশন সংঘর্ষের পক্ষপাতিত্ব করছে-রিজভী

সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে যেয়ে নির্বাচন কমিশন সংঘর্ষের পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সংখ্যা এবং নির্দেশনা শিথিল করা সেই সহায়তারই উলঙ্গ প্রকাশ।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সস্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি-ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কমিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন নির্বাচন কমিশন। এমনকি নির্দেশনাও শিথিল করা হচ্ছে। কী উদ্দেশ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা কমানো ও নির্দেশনা শিথিল হচ্ছে, কেন কেন্দ্র প্রতি তিন জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কমিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা সবার কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আগে পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনের নির্দেশনা ছিল যে, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অস্ত্র হাতে বসে থাকলে চলবেনা।’ অথচ এবারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে কোন জোরালো নির্দেশনা দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এইসব পরিকল্পনা ও নির্দেশনার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইউপি নির্বাচনে শাসকদলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদেরকে জিতিয়ে দেয়ার মহাপরিকল্পনা।’

তিনি বলেন, ‘ভোটারবিহীন সরকার গণতন্ত্রের যে ভগ্নদশা করেছেন তাতে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে সহযোগিতা করেছে এই নির্বাচন কমিশন।’

রিজভী বলেন, ‘শাসকদলের অনুকুলে ভোটকেন্দ্রের সংঘাতকে উস্কে দেয়া, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে শাসকদলের সহায়তা করা, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী মনোনীত প্রার্থীদের জিতিয়ে দেয়া, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা, ভোটের আগেই ভোটারদের বলে দেয়া যে-তাদের ভোট হয়ে গেছে ইত্যাদি নির্বাচন নিয়ে সরকারী তামাশাকে যথার্থ নির্বাচন বলে বৈধতার সীল দেয়াই হচ্ছে এখন নির্বাচন কমিশনের মূখ্য দায়িত্ব। না হলে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের নানামূখী অনিয়ম এবং সংঘাত সংঘর্ষ যা শুধু বিএনপি বা বিরোধী দলেরই অভিযোগ নয়, সংবাদপত্রেও প্রতিদিন এই সমস্ত ঘটনাবলী ছাপা হচ্ছে, তথাপিও কমিশন সেগুলি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জনগণের ভোট নিয়ে সরকারের ইয়ার্কি ঠাট্টার সহচর হিসেবে সার্কাসের ভাঁড়ের মতো ভূমিকা পালন করছে।’

‘কমিশন শুধুমাত্র নিজেদের চাকুরির প্রতিদানে নজরানা হিসেবে সরকারকে আগের নির্বাচনগুলির ন্যায় ইউপি নির্বাচনেও ইউপি চেয়ারম্যান পদ পাইয়ে দেয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ভোটারবিহীন সরকারের আক্রমণে গণতন্ত্রের মৃতদেহে পচনের গন্ধ যেন না ওঠে সেজন্য কমিশন গণতন্ত্রের নামে কিম্ভুৎকিমাকার নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে সেই মৃতদেহে আগরবাতির ধোঁয়া আর গোলাপ জল ছিটাচ্ছেন।’ যোগ করেন তিনি।

মনোনয়ন পত্র জমা দিতে বাধা দান, হুমকি-ধমকি এবং তুচ্ছ অজুহাতে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের প্রার্থীতা বাতিল করছেন বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

সরকারের আজ্ঞাবাহী কমিশন দিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরী ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১৪ জনের মতো বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে না পারাসহ তাদের প্রার্থীতা হারিয়েছেন। কারণ কমিশন সরকারী দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে একেবারেই মরিয়া। এধরনের ঘটনা এদেশে নজীরবিহীন।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে