আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৯:৪৫

পুরোহিত হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও নিন্দা খালেদার

বিডিটাইমস ডেস্ক
পুরোহিত হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও নিন্দা খালেদার

পঞ্চগড়ে পুরোহিত হত্যার ঘটনাকে মানবতাবোধশূন্য, অন্ধ হিংস্রতা ও বিকৃত পশুপ্রবৃত্তি বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ধর্মগুরুকে ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যা ও অন্য পূজারীদের গুরুতর জখমের আতঙ্কসঞ্চারী ঘটনা অশুভ আগামীর ইঙ্গিত বহন করে।’

২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে এক বিবৃতিতে বিএনপি নেত্রী বলেন, সম্প্রতি ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু হয়েছে এই নিষ্ঠুরতম বর্বর পরিকল্পনার যাত্রা শুরু যা পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে গিয়ে পৌঁছেছে।

‘এদের মধ্যে যেমন বিদেশি নাগরিক আছেন, তেমনি আছেন দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ও ধর্মাচার্য, ব্লগার, প্রকাশকসহ বেশকিছু মানুষ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে-আমরা যেন জাতির গোরস্থানের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। এই চূড়ান্ত দুঃসময়ে জনমনে একটা প্রশ্ন জেগে উঠছে, সরকার কী করছে?’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা দেশে সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনাগুলোতে একটি জঙ্গি সংগঠনের দায় স্বীকারের বার্তার বিষয়ে বারবার উল্লেখ করলেও সরকার সেটিকে পাত্তা দেয়নি। সরকার এখন দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটি মিথ্যাবাদী রাখালের চিৎকারের চারিত্রলক্ষণ। সত্যি সত্যি হিংস্র নেকড়ে এসে পড়েছে কিনা, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে একদলীয় শাসনে জনগণকে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার ভারি পাথর দিয়ে চেপে রাখলেও চরমপন্থী জঙ্গি অন্ধশক্তির উত্থান ঘটার আশংকায় দেশের উৎকণ্ঠিত নাগরিক সমাজ আগেই বারবার অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। যেসব দেশে এসব শক্তির উত্থান ঘটে সেসব দেশকে তারা নিয়ে যায় একেবারে খাদের কিনারায়।’

বেগম জিয়া আরও বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকার নির্বিকার, হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহাই সরকার করতে পারেনি। এই সমস্ত মধ্যযুগীয় রক্তপাত থামাতে ভোটারবিহীন সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। প্রাণবিনাশী আক্রমণ প্রতিহত করে প্রকৃত দুস্কৃতকারীদের ধরা তো দূরে থাক উল্টো ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই বিএনপিসহ বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো এবং নেতাকর্মীদের নামে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলায় জড়ানো হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের আমলেই জঙ্গি নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রধান ও তার নেতারা বিএনপিকে জড়িয়ে বাংলাদেশে জঙ্গির অস্তিত্বের কথা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য রেখেছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই আলট্রা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছেন তারা। অথচ বিএনপির আমলেই দ্রুত তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গিদেরকে ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমান একদলীয় অপশাসনে গণতন্ত্রের যবনিকাপাত ঘটেছে। গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতেই জঙ্গি অন্ধশক্তির সৃষ্টি হয়। অবরুদ্ধ নীরব অন্ধকারের সুযোগে হিংস্র অন্ধশক্তি রাষ্ট্রবিনাশী কাজে ধেয়ে আসে। আর এই শক্তিকে প্রতিহত করতে না পারলে জাতি হিসেবে বাংলাদেশিরা ভাবনা-চিন্তাহীন, কল্পনাহীন এবং স্বপ্নহীন হয়ে পড়বে।’

বাংলাদেশে ভাষা-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাহিত্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি সৃজিত হয়ে আসছে-মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এদেশে বিদেশি নাগরিক বা ধর্মগুরু হত্যা, উপাসনালয়ে হামলা, ব্লগার ও প্রকাশক হত্যায় জড়িত দুর্বৃত্তরা মানবতা, সভ্যতা ও আধুনিক রাষ্ট্রের বিরোধী।’

পঞ্চগড়ের শ্রী শ্রী সন্ত-গৌড়ীয় মঠের হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও নিন্দা জানান খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন নিহত পুরোহিত যগ্বেশ্বর রায়ের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

তিনি মঠের আহত পূজারীদের সুস্থতা কামনা করেন।

উপরে