আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১০:৩৪

পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের খোঁজে বিএনপি

এম হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের খোঁজে বিএনপি

দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের আগেই খালেদা জিয়া ‘চেয়ারপারসন’ নির্বাচিত হবেন আর তারেক রহমান ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে এই নিয়ে  বিএনপির নেতা-কর্মীদের কোনো কৌতূহল নেই। কিন্ত কে হচ্ছেন বিএনপির পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব এই নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ভিতরে বাইরে কৌতূহলের শেষ নেই। ইতোমধ্যে আগামী ১৯ মার্চ ষষ্ঠ কাউন্সিল করার ঘোষণা দেয় দলটি।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন সফর শেষে ফেরার পর থেকে মুলত এ কৌতুহলটা শুরু হয়। কাউন্সিলের ঘোষণা দেওয়ার পর তা পূর্ণতা পায়।

দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্য থেকে একজনকে দলের এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া৷ লন্ডনে চিকিৎসাধীন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও এতে সায় রয়েছে৷ কাউন্সিলের আগেই মির্জা ফখরুলকে ভারমুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্ত মহাসচিব পদ পেতে আগ্রহী হয়ে উঠে দলের সিনিয়রদের মধ্যে কেউ কেউ চান না মির্জা ফখরুল মহাসচিব হউক।

তাদের দাবি মির্জা ফখরুল সজ্জন হয়েও সাংগঠনিক দক্ষতা নেই তার। ফলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নাম সামনে নিয়ে আসেন অনেকেই। তিনি সিনিয়র হিসেবে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও পরীক্ষিত নেতা। দলের মহাসচিব হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সদ্য কারামুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনেরও। আবার স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ঘিরেও তৈরি হয়েছে আরেকটি বলয়।

তবে লন্ডন ও ঢাকার হিসাব-নিকাশে যার পাল্লা ভারী হবে—আগামীতে তিনিই হবেন বিএনপির মহাসচিব।

মহাসচিবের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, লন্ডন সফরে বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব করার সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া। দেশে ফিরেই মির্জা ফখরুলকে চিঠি দেওয়ার কথাও ছিল। কোনো এক অজ্ঞাতকারণে এখনো তার ভারমুক্ত হয়নি। সম্প্রতি দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। ফলে এই নিয়ে দলের হাইকমান্ড থেকে পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর সাতবার জেল খেটেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৮৪ মামলার খড়গ। ৩৫টি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও গ্রহণ করা হয়েছে। দফায় দফায় কারাগারে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি জটিল রোগেও আক্রান্ত বিএনপির এই নেতা। এরপরও ‘ভারপ্রাপ্ত’ মহাসচিবের দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।

সব কিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে  জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তরিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজে থেকে মহাসচিব হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করবেন না তিনি। বিএনপি প্রধান যদি চান, তাহলেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন । তাকে মহাসচিব করা হলে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে যাওয়া হবে স্থায়ী কমিটিতে।

দলের আরেক স্থায়ী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ঘনিষ্ঠদের কাছে মহাসচিব হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে সম্প্রতি তিনি বলছেন, নিজে থেকে খালেদা জিয়ার কাছে এ দাবি তিনি করবেন না। তবে বিএনপি প্রধান চাইলে তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

ফলে তিনি খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, বিএনপির বর্ষিয়ান মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ২০১০ সালের ১৬ মার্চ মৃত্যুর পর সুদূর প্রসারী ও দীর্ঘকালীন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ বর্তমান সরকারের বিরোধী দলের ওপর নানা ধরণের চাপ, নির্যাতন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে যেভাবে নেতাকর্মীদের চাঙা রেখে দলীয় কর্মকাণ্ড চালানো প্রয়োজন মির্জা ফখরুল অভিজ্ঞতার অভাবে সেভাবে দল পরিচালনা করতে পারছেন না বলে দলের হাইকমাণ্ডে উপলব্ধি বাড়ছে৷

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দলের মহাসচিব পদ নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে।  মির্জা ফখরুল মহাসচিব হচ্ছেন,  তা নেতা-কর্মীদের কাছে অনেকটা নিশ্চিত  ছিল। কিন্ত গত কয়েক দিনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ তরিকুল ইসলামকে মহাসচিব করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম বিডিটাইমসকে বলেন,‘ যেখানে কাউন্সিল করা অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, এখানে মহাসচিব নিয়ে কথা বলে কী হবে। আর আমি তো শারীরিকভাবে সুস্থ নই।  তারপরও দলের সঙ্গে আছি। দলের স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বিডিটাইমসকে বলেন,  ‘যে সকল ষড়যন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, এটা আসলে আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে। আর মহাসচিব হতে আমার কোনো সমস্যা নেই। হয়তো তাই একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এমএইচ

উপরে