আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:১০

মেয়র এম এ মান্নানের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা

অনলাইন ডেস্ক
মেয়র এম এ মান্নানের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম এ মান্নানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘সাগর-রুনি মিলনায়তনে’ বুধবার দুপুরে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবাদ সভাটি আয়োজন করে ‘এম এ মান্নান মুক্তি পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন নির্বাচন প্রকল্প শুরু হয়েছে। একটি করে নির্বাচন করবে এবং তার মাধ্যমে সমস্ত কিছু তারা দখল করে নিয়ে যাবে। আর বলবে, দেখ আওয়ামী লীগ কত জনপ্রিয় নৌকা জিতে গেল আর ধানের শীষ তো হেরে গেল। সেজন্য এখন প্রতীক দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করেছে। কিন্তু জোড়াতালি দিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অল্প দিন টিকে থাকা যায়, বেশি দিন যায় না।

তিনি বলেন, উন্নয়ন করেও গণতন্ত্র না থাকলে স্বৈরাচারী শাসন দিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না।

ফখরুল বলেন, ‘আইয়ুব খান উন্নয়নের লহর বয়ে দিয়েছিলেন। যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে আইয়ুব খানের সময়েই হয়েছে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি বারো বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু পতন ঠেকাতে পারেননি। এরশাদও ৯ বছরে উপজেলা গ্রামের রাস্তাঘাট করেছিলেন, কিন্তু তিনিও ধপাস। কারণ এভাবে সাসটেইনেবল (টেকসই) হয় না, যদি না তার ভিত্তি থাকে। ভিত্তিটা হচ্ছে গণতন্ত্র।

‘এখন দেশে মানুষের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। গণতন্ত্রকে ভিন্ন খাতে নিয়ে গেছে এবং সেজন্য যা কিছু করার দরকার তা করেছে এই সরকার’, বলেন ফখরুল।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, ‘৪ লাখ ১৮ হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল। প্রায় ৩২ হাজার কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের গত কয়েক বছরে ৬শ’র বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সাড়ে ৪শ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। কয়েকশ কর্মীকের গুলি করে পঙ্গু করা হয়েছে। এই হচ্ছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অবস্থা।

সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হয় অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন কথা বলেন তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হয়। যিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, যার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যিনি নিজে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি ছিলেন তিনি হয়ে যান রাষ্ট্রবিরোধী।

‘আর যারা ৭২ থেকে ৭৫ সালে লুণ্ঠন করেছে, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে, তারা এবং তাদের উৎখাত করার জন্য যারা যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল, বাহিনী তৈরি করেছিল তারা এখন সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক হয়ে বসে আছে,’ যোগ করেন তিনি।

‘দেশে যে সংকট চলছে তা শুধু বিএনপির নয়, সমগ্র জাতির’- মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এখানে সমগ্র দেশের মানুষের অধিকার, বেঁচে থাকার প্রশ্ন জড়িত। ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে দেশ। বলা হয় এটি বিএনপির সংকট। এই সংকট যে শুধু বিএনপির নয়, তা প্রমাণিত হয়েছে।

আজকে যখন মাহফুজ আমানের বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা হয় তখন এই সংকট শুধু বিএনপির নয়, মুক্তচিন্তার সংকট। কেউ মাফ পাবে না।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সত্য ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার কারণে তাকে এক বছরেরও বেশি বিনা বিচারে আটক থাকতে হয়েছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এখন মামলা উৎসব শুরু হয়েছে। ধরলেই টাকা। মামলা প্রজেক্ট। কি মামলা, কি কারণে, কিভাবে মামলায় জড়ানো যায় তার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার অনির্বাচিত এবং অনৈতিক এই বিষয় থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য ক্ষমতাসীনরা অযাচিত মন্তব্য করছেন।

অবাধ নির্বাচন ছাড়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় জানিয়ে, সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঠিক করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

এ সময় তিনি এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, এম এ মান্নান, আবদুস সালাম পিন্টু, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুর রহমানসহ সব ‘রাজবন্দিদের’ মুক্তি দাবি করেন।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কৃষক দলের সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির যুবদলের সভাপতি ও যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির। গাজীপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি আহমদ আলী রুশদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সাইদুল আলম বাবুল, হুমায়ন কবির। ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম।

গাজীপুর সদর থানার সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহমেদ বাচ্চু, ভওয়াল বদরে আলম কলেজের সভাপতি নাসির উদ্দীন নাসির, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদু্জ্জামান আসাদ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের সভাপতি- রাজু ও একই কলেজের সাবেক এজিএস নুরে আলম প্রমুখ।

উপরে