আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২১:৫৫

গণতন্ত্র মৃত্যুশয্যায়, বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন শাহ মোয়াজ্জেম

বিডিটাইমস ডেস্ক
গণতন্ত্র মৃত্যুশয্যায়, বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন শাহ মোয়াজ্জেম

‘যেভাবেই হোক, যেখানেই হোক, যত কষ্ট করেই হোক বিএনপির কাউন্সিল হবে। দেশের গণতন্ত্র এখন মৃত্যুশয্যায়। এই যখন অবস্থা তখন এমন দেশে বেঁচে থাকার কোনো আগ্রহ নেই। এখানে ইসলাম ধর্মের আলোচনা করতেও এখন পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন হয়’ এমনই মন্তব্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের।

১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির কাউন্সিল উপলক্ষে আশির দশকের ১০১ জন ছাত্রনেতা আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নয়, রাষ্ট্রদোহ মামলা হওয়া উচিত ছিল বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) হত্যাকান্ডের মতো জঘন্য ঘটনার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে। আর কারা সে ঘটনায় জড়িত ছিল সবই আমার জানা আছে। যে আইনজীবী বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছে সে সঠিকভাবে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ লিখতেও পারবে না বলেও মন্তব্য মোয়াজ্জেমের।

নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে এই নেতা বলেন, এই কমিশনের দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। কার নির্দেশে এরা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে দেশে গৃহয্দ্ধু, হানাহানি লেগে যেতে পারে।

সংগঠনের সমন্বয়কারী সরওয়ার আজম খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন আশির দশকের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নজরুল হক নান্নু, আবু তাহের তালুকদার, সাইফুদ্দিন খাঁন, অল কমিউনিটি ফোরামের উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দীন বকুল, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কাজী রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

একই দিন বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত ‘সুশাসন ও গণতন্ত্র : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’-শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকার মনে করছে, তারা বহাল তবিয়তে আছে। কারণ, রাজপথে বিএনপির কোনো আন্দোলন নেই। রাজপথে আন্দোলন না থাকলেও প্রতিটি মানুষের মনের মধ্যে আন্দোলন আছে। যেকোনো সময় এর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, এই অনির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে ঘৃণা ও ক্ষোভ রয়েছে, ক্রমেই তা বাড়ছে। এক সময় তার বিস্ফোরণ ঘটবে। তখন সরকারসহ কারো জন্যই তা শুভ হবে না। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বেহায়া সরকারের রূপ বিশ্বের দরবারে আরো উন্মোচিত করতেই বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে। নির্বাচনের নামে সরকার কিভাবে প্রহসন করে, তা আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই।

সংগঠনের সভাপতি ফরিদা মনি শহীদুল্লাহের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মিলন মেহেদী, বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক সৈয়দ শাহজাহান সাজু, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির বেপারী প্রমুখ।

উপরে