আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:৪০

বিএনপিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসছে; বাদ পড়ছেন ষড়যন্ত্রকারী ও দুর্নীতিবাজরা

অনলাইন ডেস্ক
বিএনপিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসছে; বাদ পড়ছেন ষড়যন্ত্রকারী ও দুর্নীতিবাজরা

বিএনপিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। দলের আসন্ন ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে এই পরিবর্তন দেখা যাবে। যারা ষড়যন্ত্রকারী, দুর্নীতিবাজ এবং নিজের সম্পদ ও নিজেকে রক্ষায় যথাযথভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেননি তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত- এ সারির যেসব নেতা ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন তাদের প্রথমে পদছাড়া করা হবে।এরপর যাদের বিরুদ্ধে দল ভাঙার বিষয়ে চাক্ষুষ প্রমাণ রয়েছে তাদের দল থেকে একেবারে বিদায় করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

বিপরীতে দলের জন্য মনেপ্রাণে ত্যাগী ও যোগ্য এমন তরুণদের হাতে পর্যায়ক্রমে সব স্তরের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হবে। একই সঙ্গে দলকে নতুন করে গড়ে তুলতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশেষ একটি ফর্মুলা কাজে লাগানো হবে।

সেটা হল, সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে ইমেজসম্পন্ন যেসব অরাজনৈতিক মেধাবী লোক রয়েছেন তাদের বিএনপিতে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। দলটির নির্ভরযোগ্য উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কার্যত বিএনপি তাড়াহুড়ো করবে না। বরং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে বেশি সময় দেবে।

এছাড়া এখন থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির একটি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সরকার ২০১৯ সালে নির্বাচনের কথা বললেও সরকারই আবার আগাম নির্বাচন দিতে পারে। এমন খবর বিএনপির কাছে আছে। তবে এবার জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহার বিশেষ চমক সৃষ্টি করবে।

তারা বলছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এমন কিছু ঘোষণা থাকবে, যা দেশের ৯০ ভাগ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু চমক সৃষ্টিকারী সেই বিশেষ ইশতেহার তারা কোনোভাবেই আগাম ফাঁস করবেন না।

সূত্র জানায়, দল নিয়ে কারা ষড়যন্ত্র ও সরকারের সঙ্গে আঁতাত করছেন, কারা নিষ্ক্রিয় ও ফাঁকিবাজ। তাদের ব্যাপারে সব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে এসব নেতার একটি খসড়া তালিকাও জমা দেয়া হয়েছে। তারা নিজেদের আস্থাভাজন লোক দিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছেন।

কারও কারও বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অনেকটা হাতেনাতে প্রমাণের অবস্থায় রয়েছে। সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হল এই যে, এ তালিকায় এমন সব নেতার নাম রয়েছে যা কখনও স্বপ্নেও ভাবার মতো নয়। জানা গেছে, গোপন ষড়যন্ত্রের বিষয় দলীয় চেয়ারপারসনের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ওই নেতাদের কেউ কেউ এখন বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি আপসরফা করতে দেনদরবার করছেন।
জানা গেছে, এসব নেতাকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হচ্ছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে যারা দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ষড়যন্ত্র করছেন এবং তথ্যপ্রমাণ আছে তাদের কোনো পদ দেয়া হবে না। প্রয়োজনে দল থেকে কাউকে বহিষ্কারও করা হতে পারে।

যারা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন তাদেরও বড় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এদেরও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে।

একই সঙ্গে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত রয়েছেন এমন তথ্যপ্রমাণ না পেলেও যাদের এ ব্যাপারে সন্দেহ করা হচ্ছে তাদেরও পদোন্নতি না দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রাখার কৌশল নেয়া হবে। যাতে তারা নতুন করে দলের কোনো ক্ষতি করতে না পারেন। এমনকি এসব সন্দেহভাজন নেতার সঙ্গে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে আলোচনা না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে, বিগত সময়ে মন্ত্রী-এমপি এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে থাকাবস্থায় যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, ক্ষমতা অপব্যবহার করার প্রমাণ রয়েছে এবং এখনও সাধারণ মানুষের পারসেপশনে যারা দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত তাদেরকে ভবিষ্যতে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া তো দূরের কথা দলে গুরুত্বপূর্ণ পদেও ঠাঁই দেয়া হবে না।

তৃতীয় ক্যাডাগরিতে, যারা নিজের সম্পদ ও নিজেকে রক্ষায় বেশি ব্যস্ত এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, আন্দোলনের সময় রাস্তায় না নেমে ঘরে টিভি দেখে সময় পার করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থার খড়গ ঝুলছে। ফাঁকিবাজ হিসেবে চিহ্নিত এসব নেতাদেরও আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা হতে পারে।

এদিকে এসব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, ষড়যন্ত্রকারী, দুর্নীতিবাজ ও নিষ্ক্রিয়দের দল থেকে বাদ দেয়া তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দাবি। দলের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এদের বাদ দেয়া হাইকমান্ডের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। তারপরও এ চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

এবারের কাউন্সিলে এরকম কিছু একটা হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনিও তাই মনে করেন। তিনি যতদূর জানেন, বিএনপির হাইকমান্ড এবার যেসব কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে তা অনেকের ধারণার বাইরে।

জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে ড. খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং ড. আর এ গনি মৃত্যুবরণ করেন। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এম শামসুল ইসলাম, বেগম সরোয়ারী রহমান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মৃত্যু এবং বার্ধক্যজনিত কারণে এই পাঁচজনের জায়গায় নতুন মুখ আসছে- এটা নিশ্চিত।

এদের ছাড়াও স্থায়ী কমিটির দু’জন সিনিয়র নেতাকে বাদ দেয়া হতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র এবং সরকারের সঙ্গে আঁতাতের প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে। স্থায়ী কমিটির আরও কয়েকজন পেছন দরজা দিয়ে ষড়যন্ত্রের ঘরে বাতাস দিয়েছেন বলেও তথ্য আছে। তবে তাদের গতিবিধি আরও অনুসরণ করে ভবিষ্যতে সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোর্শেদ খান, সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, ড. ওসমান ফারুক, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ঢাবির অধ্যাপক ড. তাসমেরী এস ইসলাম প্রমুখ।

তবে এদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। তাই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী কমিটির টিকিট কাদের ভাগ্যে জুটবে তা নিশ্চিত করে এখনও বলার সময় আসেনি। আবার এসব সিনিয়র নেতার বাইরে অপেক্ষাকৃত তরুণদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহানকেও শেষ পর্যন্ত স্থায়ী কমিটিতে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে